kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

রাজধানীর একাংশ ছিল পুলিশের নিয়ন্ত্রণে

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রাজধানীর একাংশ ছিল পুলিশের নিয়ন্ত্রণে

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে গতকাল বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয় সর্বোচ্চ আদালতের প্রতিটি প্রবেশপথে। আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির পর পরিচয়পত্র দেখে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাংবাদিকসহ প্রতিটি মানুষকে অনুমতি দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে ঢুকতে। প্রবেশপথের সামনে প্রাইভেট কারসহ যেকোনো গাড়ি আসতেই পুলিশ তা থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ভেতরে ঢুকতে অনুমতি দেয়। এ সময় যেকোনো ধরনের মিছিল, সমাবেশ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে আদালতের আশপাশের সড়কে জলকামানসহ পুলিশের বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা ছিল। প্রস্তুত ছিল দাঙ্গা পুলিশও। একই সঙ্গে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কসহ রাজধানীর লালবাগ, মতিঝিল, রমনা, তেজগাঁও, মিরপুরসহ সব এলাকায়। গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা চোখে পড়েনি সরেজমিনে। 

সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়ার রায় শুনানিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে রায় শুনানিকে কেন্দ্র করে বহিরাগতরা যেন প্রবেশপত্র ছাড়া আদালত চত্বরে ঢুকতে না পারে সেদিকে বিশেষ খেয়াল ছিল। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।’  

এদিকে দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ হওয়ায় হতাশ বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তাত্ক্ষণিক বিক্ষোভ করেছেন তাঁরা। পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসবেন নেতারা। সেখান থেকে কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দলটির নেতারা এই রায়ে দেশের মানুষ হতাশ ও বাকরুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যেও এক ধরনের প্রস্তুতির ভাব দেখা গেছে—এ বিষয়ে দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায় শুনানিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে মাঠে নামতে প্রস্তুত ছিল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পৃথক মিছিল ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। দুপুরে বাংলামোটরে বিএনপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিলটি পুলিশি ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, মহানগর পশ্চিম ও মোহাম্মদপুর থানা বিএনপি এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ সময় রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক হিংসাত্মক বক্তব্যের উদ্দেশ্যই ছিল খালেদা জিয়াকে জামিন না দিতে বিচার বিভাগ এবং বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করা। এর পরও আমাদের বিশ্বাস ছিল, সরকারের সব নজরদারি ও হুমকি উপেক্ষা করে সর্বোচ্চ আদালত দেশনেত্রীকে জামিন দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে দেশের মানুষ হতাশ এবং বাকরুদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার পর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকার বেগম জিয়াকে তাঁর ন্যায়সঙ্গত অধিকার জামিন থেকেই কেবল বঞ্চিত করছে না, বরং শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ একজন বয়স্ক নারীকে সুচিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত করছে। সরকারের হস্তক্ষেপেই আদালত তা খারিজ করলেন। প্রকৃত অর্থে এ আদেশের মাধ্যমে একটি খারাপ নজির স্থাপিত হলো। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই, এখন আর ঘরে বসে থাকলে চলবে না। এটা স্পষ্ট, বেগম জিয়ার কারামুক্তিতে এখন রাজপথই আমাদের একমাত্র সমাধান।’

দুপুরে কমলাপুর এলাকায় যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে মিছিল হয়। মিছিলে যুবদল নেতা মোরতাজুল করিম, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, রফিকুল আলম মজনু, এস এম জাহাঙ্গীরসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া পাহারা ছিল। কার্যালয়ের আশপাশ থেকে দুই নেতাকর্মীকে আটকের অভিযোগ করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর।

স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ : স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল মৌচাক মোড় থেকে শুরু হয়ে সফিনা হাসপাতাল হয়ে মালিবাগ রেলগেটে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে সংগঠনের সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিল হতে বিভিন্ন স্লোগানে অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করা হয়। এ ছাড়া শনিবার সংগঠনের উদ্যোগে ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

যুবদলের বিক্ষোভ : খালেদার জামিন আবেদন খারিজের প্রতিবাদে এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামীকাল শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে যুবদল।

ইউট্যাবের নিন্দা : খালেদার জামিন আবেদন আদালত কর্তৃক খারিজ হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অবিলম্বে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা