kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

কেরানীগঞ্জের দুই বিঘা আয়তনের কারখানাটির ফটক ছিল একটি

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেরানীগঞ্জের দুই বিঘা আয়তনের কারখানাটির ফটক ছিল একটি

কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানার সামনে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া হিজলতলার প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আয়তন প্রায় দুই বিঘা। দিন-রাত মিলিয়ে কারখানাটির দুই শিফটে প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক কাজে নিয়োজিত ছিল। অবাক করার বিষয় হলো, এত বড় কারখানায় প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার জন্য রয়েছে মাত্র একটি গেট। মূলত এ কারণেই অগ্নিদগ্ধ মানুষের সংখ্যা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। অপ্রশস্ত রাস্তা এবং একটি ফটক থাকার কারণে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদেরও দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়, ফলে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গেলে কথা হয় অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানাটির সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার শাকিলের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিকেল ৪টার দিকে কারখানার ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন ও ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারখানার গ্যাস সিলিন্ডারের কাছে কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই একটি সিলিন্ডারে আগুন লাগে। স্যাররা ওই সিলিন্ডারের আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এখানে অনেক সিলিন্ডার ছিল। বাকি সিলেন্ডারে যেন আগুন না লাগে সে জন্য সেগুলো বের করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ১০-১৫টি সিলিন্ডার বের করার পর বাকি সিলিন্ডার বের করা সম্ভব হয়নি। পরে একটির পর একটি সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়। কারখানাটি তিন ভাগে ভাগ করা। যে পাশে আগুন লাগে সেখানে ৫০-৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে প্রথমে নারী শ্রমিকদের বের করে দেওয়া হয়। পরে আগুন বাড়তে থাকলে যে যার মতো বাঁচার চেষ্টা করে।

কারখানার পাশেই মাটিতে বসে সকাল থেকে আহাজারি করছিলেন রোকেয়া বেগম। রোকেয়ার দুই ভাই  আলম (২২) ও রাজ্জাক (৪২) কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর দুই ভাই এ ঘটনায় দগ্ধ হন। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দুজনই মারা যান। পাশেই বসে থাকা রোকেয়ার বড় খালা রেজিয়া বেগম জানান, মা-বাবাহারা রোকেয়ারা তিন বোন চার ভাই। আলম ও রাজ্জাক কারখানায় প্যাকিংয়ের কাজ করতেন। দুই ভাইই গতকাল সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কারখানার পাশের জায়গাটি রোকেয়াদেরই। কারখানা মালিক নজরুল ইসলাম তাঁদের কাছ থেকে জায়গাটি কিনেছে বলে জানান রোকেয়া। বসতবাড়ির আশপাশে এমন কারখানা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভের সঙ্গে রোকেয়া বলেন, কারখানা মালিক নজরুল প্রভাবশালী। তিনি রাজধানীর ওয়ারীতে থাকেন, এখানে মাঝেমধ্যে আসেন। এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক। তাই কয়েকবার কারখানাটিতে আগুন লাগলেও এটা কেউ বন্ধ করতে পারেনি।

রোকেয়া আরো বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা পাওয়ায় বারবার আগুন লাগার পরও কারখানাটি এত ঘনবসতি এলাকায় রয়ে গেছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা