kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শীতের সবজিতে ভরপুর বাজার

পাইকারি আর খুচরার দামে বিশাল ফারাক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পাইকারি আর খুচরার দামে বিশাল ফারাক

শীত মৌসুমে সবজিতে ভরে উঠেছে কাঁচাবাজার। রাজধানীর প্রতিটি কাঁচাবাজার এখন সবজিতে পরিপূর্ণ। কাঁচাবাজারের দোকানে দোকানে থরে থরে সাজানো ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাঁজর ও টমেটো। পাইকারি বাজারে এসব সবজির দাম নাগালে থাকলেও খুচরা বাজারে অনেক ক্ষেত্রেই প্রায় দ্বিগুণ দাম রাখা হচ্ছে। ফলে ভরপুর শীতের সবজিও ক্রেতার মুখে হাসি ফোটাতে পারেনি।

পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। মোকাম থেকে প্রতিদিন রাজধানীর খুচরা বাজারে ঢুকছে কাঁচা সবজি। তবে খুচরা বাজার ঘুরে দামে স্বস্তির খোঁজ মেলেনি। এক সপ্তাহ আগে যে দামে সবজি বিক্রি হতো, এখনো প্রায় সেই দামই। শীতের সবজির সরবরাহ সামনে আরো বাড়বে, তখন আগের চেয়ে দাম কমতে পারে বলে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন।

এদিকে মৌসুমের নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম নিয়ে নৈরাজ্য কিছুটা কমেছে। তবে এখনো নাগালের মধ্যে আসেনি দাম। সরেজমিনে কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়ত ঘুরে দেখা যায়, পাইকারিতে প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, যা খুচরায় ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। কোথাও কোথাও প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

তবে পুরনো দেশি পেঁয়াজের ঝাঁজ এখনো কমেনি। প্রতি কেজি দেশি পুরনো পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায় এবং খুচরায় ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়। মিসরের পেঁয়াজ পাইকারিতে প্রতি কেজি ৯০ টাকা আর চীনের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে আমদানি করা এই পেঁয়াজ কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর রামপুরা, গুদারাঘাট ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি আড়তে দেশি পুরনো পেঁয়াজের দেখা মিললেও খুচরা বাজারে তেমনটা নেই। দু-একটি দোকানে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। আর সব খুচরা দোকানে নতুন দেশি পেঁয়াজ ও আমদানি করা চীনের বড় বড় পেঁয়াজ দেখা গেছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর বাজারে অন্যান্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও মাঝারি ডাল, সয়াবিন তেল (খোলা ও বোতলজাত) ও চিনির দাম বেড়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজ, আদা, ফার্মের মুরগির ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরপুর থাকলেও দামে পরিবর্তন নেই। এক সপ্তাহ আগে মাঝারি মানের একটি ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। গতকাল বৃহস্পতিবারও একটি ফুলকপির দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ছোট আকৃতির একটি ফুলকপির দাম ৩০ টাকা। প্রতি কেজি শিমের দাম ৫০ টাকা আর বিচিওয়ালা লম্বা শিমের দাম ৬০ টাকা। বেগুন মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। নতুন পাকা টমোটো ১২০ টাকা আর পুরনো পাকা টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা। সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম করলার। বড় আকৃতির এক কেজি করলার দাম ৮০ টাকা।

পাইকারি বাজারে প্রতিটি ফুলকপির দাম পড়ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। একটু ভালো মানের ফুলকপি ৩০ টাকা। তবে ভালো মানের সেই ফুলকপি খুচরায় দাম পড়ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁপে প্রতি পাল্লার (পাঁচ কেজি) দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি কেজিতে পড়ছে ১৮ টাকা। তবে খুচরায় পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। নতুন টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ টাকায়। করলা এক পাল্লার দাম পড়ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। সেই করলা খুচরায় কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। শিমের পাল্লা ১৫০ টাকা, কেজিতে দাম পড়ে ৩০ টাকা। তবে খুচরায় সেই শিমের দাম পড়ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১২০ টাকায়। কমেছে আদার দামও। প্রতি কেজি আদার দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৭০ টাকায়। ফার্মের ডিমের দাম প্রতি হালিতে তিন টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে চার টাকা। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৪-৮৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক লিটার ও পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে বেড়েছে ৪৫ টাকা আর এক লিটারের বোতলে বেড়েছে পাঁচ টাকা। পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ৪৪৫ থেকে ৫০০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪৩০ থেকে ৫০০ টাকা আর এক লিটারের ১০০ থেকে ১১০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা। ডালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা। চিনির দাম প্রতি কেজিতে দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকায়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা