kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

অধিকারকর্মীদের বের করে দিলেন নিরাপত্তাকর্মীরা

জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৫

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৫-এ অংশ নেওয়া অধিকারকর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়েছে। একপর্যায়ে অধিকারকর্মীদের সম্মেলনস্থলের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে সম্মেলনের দ্বিতীয় সপ্তাহে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শুরু হওয়ার আগে গত বুধবার। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে এ সম্মেলন চলছে।

অংশগ্রহণকারীরা জানান, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিন শ অধিকারকর্মী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পক্ষে দাবিদাওয়াসংবলিত ব্যানারসহ মূল সম্মেলনকক্ষের সামনে সমবেত হন। সমাবেশে বক্তারা ক্ষতি ও বিনাশ (লস অ্যান্ড ড্যামেজ) খাতে নতুন ও অতিরিক্ত অর্থায়ন, কার্বন বাণিজ্য বন্ধ করা, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দান, ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনা ও দূষণকারী কম্পানিগুলোকে জলবায়ু সম্মেলন থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। সমাবেশটি পরিচালনা করেন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আমালেন সত্যানন্থ।

সমাবেশ চলাকালে জাতিসংঘের নিরাপত্তাকর্মীরা আমালেন সত্যানন্থকে আটক করে সম্মেলনকক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের আঘাতে নারীসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন। এর পরও আন্দোলনকারীরা স্লোগান ও বত্তৃদ্ধতা করতে থাকেন। তখন নিরাপত্তাকর্মীরা অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারীর ব্যাজ কেড়ে নিয়ে সবাইকে ঠেলে সম্মেলনকেন্দ্রের বাইরে পাঠিয়ে দেন। কারো কারো মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার কেড়ে নেওয়া হয়। সম্মেলনকেন্দ্রের বাইরে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া স্প্যানিশ পুলিশ আন্দোলনকারীদের ঘিরে রাখে, যাতে তাঁরা কোথাও যেতে না পারেন। এর পরও জলবায়ু-অধিকারকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকলে তাঁদের স্প্যানিশ পুলিশ পুরো এলাকার বাইরে বের করে দেয়।

বাংলাদেশের অধিকারকর্মী, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোটের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্যই নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য চিৎকার করে দাবি জানাচ্ছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমাদের জোর করে বাইরে বের করে দিয়েছেন।’

ভারতের অধিকারকর্মী ইনসাফের সভাপতি বিদ্যা দিনকর বলেন, ‘দূষণকারীদের বের করে না দিয়ে জাতিসংঘ অধিকারকর্মীদের বের করে দিয়েছে, যাঁরা পৃথিবী রক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন।’

ইন্দোনেশিয়ার অধিকারকর্মী রেজা সাহিব বলেন, ‘এই আচরণ প্রমাণ করে জাতিসংঘ দুমুখো সাপের ভূমিকা নিয়েছে। তারা পৃথিবী সুরক্ষার কথা বলছে, আবার ধনী দেশ ও দূষণকারী কম্পানির পক্ষে কাজ করছে।’

নেপালের জলবায়ু অধিকারকর্মী অভিষেক শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘আমাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে আর এখানে কম্পানি ও ধনী রাষ্ট্রের স্বার্থে আমাদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। এটা অন্যায়, এটা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা