kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

আইআইডিইএর প্রতিবেদন

বাংলাদেশে ‘হাইব্রিড’ শাসন ২০১৪ থেকে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশে ‘হাইব্রিড’ শাসন ২০১৪ থেকে

এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশসহ মোট পাঁচ দেশে ‘হাইব্রিড’ শাসন ব্যবস্থা চালু আছে বলে মনে করে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (আইআইডিইএ)। ২০১৯ সালের বৈশ্বিক গণতন্ত্র পরিস্থিতি শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে আইআইডিইএ। বাংলাদেশ সময় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কনফারেন্স ভবনে আইআইডিইএ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর ও কিরগিজস্তানে হাইব্রিড শাসন চলছে। বিশ্বের মোট হাইব্রিড শাসনের ১৮ শতাংশই এই অঞ্চলে। গত চার দশকের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ‘গণতান্ত্রিক’, ‘হাইব্রিড’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’—এই তিন ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। অন্যদিকে আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর ও কিরগিজস্তানে কখনো পূর্ণ গণতন্ত্র ছিল না। এ ছাড়া মালয়েশিয়া ছয় দশকেরও বেশি সময় পর গত বছর ‘হাইব্রিড’ অবস্থা থেকে উন্নতি করে দুর্বল গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে।

আইআইডিইএ বলেছে, এই অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর পর গণতান্ত্রিক ভঙ্গুরতা ও বিচ্যুতি প্রত্যক্ষ করেছে। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে এবং ২০১৮ সাল থেকে পাকিস্তানে হাইব্রিড ব্যবস্থা চালু হয়েছে। থাইল্যান্ডে সামরিক শাসন শুরু হয়েছে ২০১৪ সালে। তবে এ বছর নির্বাচন দেশটিতে বেসামরিক সরকারের জন্য পথ খুলেছে।

এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ব্যবস্থার হিসাবে উচ্চ অবস্থানে দেখানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও পূর্ব তিমুরকে। ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর আছে মধ্যম সারিতে। নিচের সারিতে আছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, চীন, কম্বোডিয়া, লাওস, উত্তর কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো কিছু দেশ।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আগে ছিল ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ২০১৪ সালে সেই পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়ে হাইব্রিড ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে গণতন্ত্র থেকে পিছু হটার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল আরো বেশ আগে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ বিভিন্ন আইন ও মামলার মাধ্যমে গণমাধ্যমের ওপর পূর্ণ আক্রমণ চালায়। এ সময়ে সাংবাদিকদের হয়রানি ও হামলার তথ্য রয়েছে। সংবিধানের অজুহাত দেখিয়ে জামায়াতের মতো ধর্মীয় রাজনৈতিক দলকে ‘নিষিদ্ধ’ এবং বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তারসহ বিরোধী দলগুলোর নাগরিক স্বাধীনতা চর্চায় আওয়ামী লীগ বাধা সৃষ্টি করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এমনটি দাবি করা হলেও বাস্তবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়নি।

২০১৮ সালের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ২১ হাজার বিরোধী নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এবং বিরোধীদের ওপর ক্ষমতাসীন দল হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিরোধী দলগুলো ওই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও প্রতিবেদনে তথ্য রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা