kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

স্থানীয় কম্পানিগুলোকে প্রধানমন্ত্রী

কুষ্ঠ রোগীদের জন্য ওষুধ তৈরি করুন

পার্বত্য অঞ্চল ও নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের কিছু হতদরিদ্র এলাকায় কুষ্ঠ রোগ বেশি দেখা যায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুষ্ঠ রোগীদের জন্য ওষুধ তৈরি করুন

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল ‘২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ রোগ নির্মূল’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারক উপহার তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধে লক্ষণ ও সংক্রমণপ্রবণ এলাকাভিত্তিক কৌশল নির্ধারণে বিশেষভাবে মনোযোগী হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০৩০ সালের আগেই দেশ থেকে কুষ্ঠ রোগ নির্মূলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে কুষ্ঠ রোগীদের জন্য ওষুধ তৈরি এবং বিনা মূল্যে বিতরণ করার জন্য স্থানীয় ওষুধ কম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ রোগ নির্মূল’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক ওষুধ কম্পানি রয়েছে, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করে এবং তাদের ওষুধের মান খুবই ভালো। তাই আমি তাদেরকে বিশেষায়িত ওষুধ তৈরি করার জন্য অনুরোধ জানাতে চাই, যা কুষ্ঠ রোগীদের জন্য দরকার। এসব ওষুধ রোগীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করার ব্যবস্থা করুন, যা দ্রুত আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুরুতেই যদি কুষ্ঠ রোগী হলে কী কী লক্ষণ পাওয়া যায়...প্রাথমিক পর্যায় থেকেই যদি আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা নিই, তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে থাকার ব্যবস্থা করে দিই, তাদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি; তাহলে কিন্তু এই রোগটা আর বৃদ্ধি পায় না, তারা পঙ্গুত্ববরণ করে না। নতুন কেউ যেন আক্রান্ত না হয় সেটাও দেখতে হবে। সেই বিষয়টা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে প্রয়োজন। আমরা সেভাবেই দৃষ্টি দিচ্ছি।’

কুষ্ঠ সংক্রমণ নিয়ে অঞ্চলভিত্তিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই রোগটা সব এলাকায় সমানভাবে ছড়ায় না; পার্বত্য অঞ্চল ও নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের কিছু হতদরিদ্র এলাকায় বেশি দেখা যায়। যেসব এলাকায় বেশি দেখা যাচ্ছে, সেসব এলাকার দিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। আমরা এটা যদি করতে পারি তাহলে আমি মনে করি যে ২০৩০ লাগবে না। তার আগেই বাংলাদেশকে আমরা এই ‘লেপ্রসিশূন্য’ করতে সক্ষম হব।”

কুষ্ঠ রোগীদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি কোনো ধরনের অবহেলা ও হেয় না করে সমাজের অন্য দশজন মানুষের মতো তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিতে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার ছয় বছর পর নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর কুষ্ঠ রোগীদের পাশে থাকার নিজের অনুপ্রেরণাদায়ী ভূমিকার কথা স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ডাব্লিওএইচও গুডউইল অ্যাম্বাসাডর ইওহেই সাসাকাওয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা