kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাড়ছে শীতজনিত রোগ

ঠাণ্ডায় থরথর পঞ্চগড়

তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঠাণ্ডায় থরথর পঞ্চগড়

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত। দিন দিন তাপমাত্রা আরো কমে আসছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় গত রবিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এই শীতে এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বেশ কয়েক দিন থেকেই পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। গতকাল সোমবার ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা কুয়াশার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরে হিমালয় থেকে ভেসে আসা ঠাণ্ডা বাতাসে গা হিম হয়ে আসে। অসম্ভব ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। তাপমাত্রা শূন্যের দিকে নেমে আসে। শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে ঠাণ্ডার প্রকোপ বেশি। রাতে কুয়াশাপাতের কারণে পথঘাটে হেডলাইট জ্বালিয়েও যানবাহন চালাতে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। ভোরে চারপাশ কিছু সময় হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে। শীতের প্রকোপ বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছে জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ রাত কিংবা ভোরে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেন। সকাল আটটার পর সূর্যের দেখা মিললে খানিক উষ্ণতা পাওয়া যায়। এ সময় শিশু ও বৃদ্ধসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে রোদ পোহাতে দেখা যায়। তবে সূর্যের তাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ২১ হাজার শীতবস্ত্র দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা বৃদ্ধ আছমত আলী বলেন, ‘দিনেত তাহো কনেক বেড়া যাছে, আতিত হাত পাও শিক লগে অচ্ছে। ঠাণ্ডাত ঘুমা না যায় বা।’

এ ছাড়া শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় জেলার হাসপাতালগুলোতে দিন দিন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগীর সংখ্যা বেশি। শীতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। কয়েক দিন ধরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিদিন শীতজনিত শতাধিক রোগী বহির্বিভাগ থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে। যারা বেশি অসুস্থ তারা শুধু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এদিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় মারাত্মকভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৩৬টি পদের মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ছয়জন। এই শীতে ইনডোর ও আউটডোরসহ রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। সকাল থেকেই রোগীদের লম্বা লাইন পড়ছে। তাই মেডিক্যাল কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বহির্বিভাগের রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টরাও।

পঞ্চগড় সদরের গোয়ালপাড়া এলাকার সুমাইয়া আক্তার সুমি বলেন, ‘শীতের প্রকোপ বাড়ায় আমার দেড় বছরের ছেলের হঠাৎ ঠাণ্ডা লেগে গেছে। বুকে কফ বসে গেছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু হাসপাতালে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তাই নিরুপায় হয়ে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টদেরই দেখিয়ে ওষুধ নিলাম। খাইয়ে দেখি কমে কি না।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. সিরাজউদ্দৌলা বলেন, ‘দেশের অন্য স্থানের চেয়ে পঞ্চগড়ের শীতের প্রকোপ একটু বেশিই থাকে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।’

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা ক্রমেই কমে আসছে। গত রবিবার তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ডিসেম্বরে দুই একটি মৃদু ও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে শীতের সঙ্গে ব্যাপক কুয়াশা থাকলেও এবার ভিন্ন রকম আবহাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত অসম্ভব ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশা নেই বললেই চলে। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মেলায় খানিকটা উষ্ণতা পাওয়া যায়।’

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘প্রায় ২১ হাজার শীতবস্ত্র দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় পাঠানো হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা