kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইসিসিবি জমজমাট

সরকারি চাকরিতে যোগদান ঘিরে নবীন চিকিৎসকদের স্বপ্নময় উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি চাকরিতে যোগদান ঘিরে নবীন চিকিৎসকদের স্বপ্নময় উচ্ছ্বাস

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গতকাল ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অভিষেক অনুষ্ঠানে তরুণ চিকিৎসকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সকাল থেকেই সাজগোজ সেরে পরিপাটি হয়ে সারা দেশ থেকে ছুটে আসা তরুণ-নবীণ চিকিৎসকদের ভিড়। কেউ এসেছেন মা-বাবার সঙ্গে, কেউ এসেছেন স্বামী বা স্ত্রীকে নিয়ে, কেউ বা এসেছেন একা। সবারই চোখে-মুখে জীবনের নতুন এক যাত্রার হাতছানি; স্বপ্নপূরণের উচ্ছ্বাস। পড়াশোনায় কৃতিত্বপূর্ণ মেধার পরিচয় দিয়ে মানবসেবার ব্রত নিয়ে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন তাঁরা। তার পরও যেন তাঁদের স্বপ্নপূরণ হয়ে উঠছিল না পুরোটা। বাকি ছিল সরকারি চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবার সঙ্গে নিজের ভবিষ্যেক আরো উজ্জ্বলতর করে তুলবেন। নিজ পেশার প্রায় ৪০ হাজার চিকিৎসকের ভেতর থেকে যুদ্ধ জয় করে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন চার হাজার ৪৪৩ জন চিকিৎসক।

গতকাল রবিবার এই নবীন-নবাগত সরকারি চাকুরে চিকিৎসকদের অন্য রকম এক মিলনমেলা জমে উঠেছিল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই চিকিৎসকরা আসেন আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানপত্র জমা দিতে। একই ছাদের নিচে বিপুল উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ওই আয়োজন। শুধু কাজপত্র জমা দেওয়াই নয়, সঙ্গে তাঁদের উদ্দেশে নানা নির্দেশনা, পরামর্শ, উপদেশ দেওয়া হয় স্বাস্থ্য খাতের সরকারি-বেসরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া যেমন আনন্দের, তার চেয়েও বড় আনন্দ পাওয়া যায় সঠিকভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে, চিকিৎসকদের জন্য এই আনন্দ আরো বড় হয়ে ওঠে মানুষের সরাসরি চিকিৎসাসেবা দিতে পারার জন্য; অন্য কোনো পেশায় এই সুযোগ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমাদের দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ এখনো গ্রামে বাস করেন, তাই গ্রামের মানুষদের ভালো না রাখলে কখনো শহর ভালো থাকতে পারে না। এ জন্যই নতুন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের গ্রামে গিয়ে নিজেদের মতো করে পরিবেশ তৈরি করে নিতে হবে মানুষের সেবার জন্য।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসকদের সমস্যা সমাধানে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগামী মাসের মধ্যেই সব উপজেলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের জন্য একটি করে গাড়ি পৌঁছে যাবে। সেই সঙ্গে আবাসন সংকট সমাধানেও প্রায় ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তাই নতুন যোগদান করা চিকিৎসকরা যাঁর যাঁর কর্মস্থলে সঠিকভাবে কাজ করে গেলে অবশ্যই পর্যায়ক্রমে তাঁদের অন্যান্য সমস্যারও সমাধান ঘটবে।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের পক্ষে ডা. নীলিমা ইয়াসমিন ও ডা. মাহফুজ হাসান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা