kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

এবারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ১ মার্চ

রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ভোটার দিবসের সঙ্গে সংগতি রাখতেই এ বিলম্ব

কাজী হাফিজ   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এবারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ১ মার্চ

বিদ্যমান আইনে প্রতিবছর ২ জানুয়ারি খসড়া এবং ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এবার তা হচ্ছে না। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ১ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবসে। সে কারণে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে এবার যাঁরা নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড পেতে ১ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। এ বিষয়ে আইনগত জটিলতা দূর করতে ভোটার তালিকা আইনটি সংশোধন হচ্ছে।

ভোটার দিবসের সঙ্গে সংগতি রক্ষা ছাড়াও এবার ভোটার হালনাগাদের তালিকা রোহিঙ্গামুক্ত করতেও এই বাড়তি সময় নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের হালনাগাদ কার্যক্রমে নতুন ভোটার হিসেবে যাদের নিবন্ধন করা হয়েছে, তাদের তথ্য রোহিঙ্গা ডাটাবেইসের সঙ্গে মেলানো হবে। রোহিঙ্গারা কেউ এ দেশে ভোটার হতে চেষ্টা করে থাকলে তাদের শনাক্ত করে বাদ দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ভোটারের ডাটাবেইসও রোহিঙ্গা ডাটাবেইসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে আগে কোনো রোহিঙ্গা ভোটার হয়ে থাকলে তাদের বাদ দিয়ে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা করা হবে। এই বিশাল কাজে আমাদের সময় লাগছে।’

এই নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, ‘১ মার্চকে ভোটার দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দিনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করাটাও দিবসটির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এ কারণে বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই আইন সংশোধনের কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হবে।’

নতুন নিবন্ধিতদের এনআইডি কার্ড দেওয়া প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার কারণেই এবার যচাই-বাছাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিবন্ধিতদের এনআইডি কার্ড দেওয়া ঠিক হবে না।’

জানা যায়, নির্বাচন কমিশনার শাহাদৎ হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্য-প্রযুক্তির প্রয়োগ’ বিষয়ক কমিটি তাদের গত ১০ অক্টোবরের বৈঠকে ভোটার তালিকা নিয়ে যেসব প্রস্তাব করেছে, তাতে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, ভোটার তালিকা আইনে খসড়া প্রকাশের যে তারিখ উল্লেখ রয়েছে তা তুলে দিয়ে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত তারিখে ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষমতা কমিশনের হাতে রাখতে হবে। এ ছাড়া এ বছর চলমান হালনাগাদের খসড়া ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং ১ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবসে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন আগামী ২ জানুয়ারি হালনাগাদ করা খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ না করে ২০ জানুয়ারি সেটা প্রকাশের পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

প্রসঙ্গত, গত ১ মার্চ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত হয়। বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকে জাতীয় ভোটার দিবস পালন হয়ে আসছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০১০ সাল থেকে ২৫ জানুয়ারি এ দিবস পালন করা হয়। ১৯৫০ সালের ২৫ জানুয়ারি ভারতে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন গঠনের ওই দিনটিকেই ভারতে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর কমিশনের ১৫তম সভায় স্বাধীনতার মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ মার্চ ভোটার দিবস পালনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বরের কমিশন সভায় কমিশনের সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জাতীয় ভোটার দিবস বিষয়ে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তাতে ভোটার দিবস পালনের জন্য ১ জানুয়ারি বা ৭ জুলাইয়ের কথা বলা হয়। দেশে ভোটার তালিকা আইন অনুসারে ভোটার হওয়ার যোগ্য নির্ধারণ করা হয় ১ জানুয়ারি কারো বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ওই সভায় জানানো হয়, ১ জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন করা হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, স্বাধীনতার মাস হিসেবে মার্চ মাসকে গুরুত্ব দিয়ে এ মাসের প্রথম দিনটিকেই জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালন করা হবে। এরপর ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের এসংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

ভোটার বাড়তে পারে এক কোটি : এবারের ভোটার হালনাগাদে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করছে নির্বাচন কমিশন। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা এর আগে যাদের জন্ম—এ রকম নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবার। এর মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদের নাম ২০২০ সালে প্রকাশিতব্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যাদের বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাদের বয়স যখন ১৮ বছর পূর্ণ হবে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। গত বুধবার পর্যন্ত ৯০ লাখ ৬৬ হাজার ১০৫ জন নতুন নাগরিকের তথ্য নিবন্ধন করেছে কমিশন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা