kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

ভূমি ব্যবস্থাপনা-সেবা পদ্ধতি

অটোমেশনে কমবে জমি নিয়ে হানাহানি-খুন

ফৌজদারি মামলার ৮০ শতাংশই জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের ♦ অনলাইনে খতিয়ান সরবরাহ, ই-নামজারি ও ই-সেটলমেন্ট কার্যক্রম শুরু

নিখিল ভদ্র   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অটোমেশনে কমবে জমি নিয়ে হানাহানি-খুন

ভূমিসংক্রান্ত সব জটিলতা নিরসনে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রদান পদ্ধতি আটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ‘ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ নামের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ আগামী বছর শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মধ্যে সমাপ্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে সম্প্রতি উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশে ফৌজদারি মামলার ৮০ শতাংশের পেছনে আছে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ। এই বিরোধ এড়াতে এরই মধ্যে অনলাইনে খতিয়ান সরবরাহ, ই-নামজারি ও ই-সেটলমেন্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ডিজিটাল ল্যান্ড ডাটা ব্যাংক ও ল্যান্ড জোনিং কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে। এরপর ভূমি ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন কার্যক্রম শুরু হলে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে যে হানাহানি ও খুনের ঘটনা ঘটছে, তা অনেকাংশে কমবে। এ ছাড়া সারা দেশে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং আদালতে হয়রানি লাঘব হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় ভূমি ব্যবস্থাপনায় ১৭টি ধাপে সংস্কার আনা হবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার ও নেটওয়ার্ক কেন্দ্র স্থাপন, প্রতিটি সাবরেজিস্ট্রি অফিসের জন্য ৪৯৬টি মাইক্রো ডাটা সেন্টার স্থাপন ও জেলা ডাটা সেন্টারের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন, প্রতিটি জেলায় একটি করে ডাটা সেন্টার, এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সফটওয়্যার উন্নয়ন, নিবন্ধন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সব অফিসের জন্য ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) স্থাপন, তহশিলদার, দলিল লেখক ও নকলনবিশদের প্রশিক্ষণ, বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম স্থাপন ও রেকর্ড রুম স্বয়ংক্রিয়করণ এবং পুরনো রেকর্ডগুলো ডিজিটাইজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু কালের কণ্ঠকে জানান, ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার বিষয়টি বর্তমান সরকারের একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার। সেই আলোকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন কার্যক্রম চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রকল্পের বাস্তবায়নকাজ আগামী বছর শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হবে। এতে ভূমিসংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও হয়রানি কমবে এবং অন্যান্য জটিলতা নিরসন হবে।

সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় এক হাজার ২৫২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যয় কম্পিউটার সফটওয়্যার কেনায় ১২৫ কোটি টাকা, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ কেনায় ১২৩ কোটি টাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পণ্য ও সেবা খাতে ৩০৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি ভূমি সংস্কার বোর্ড, ভূমি আপিল বোর্ড, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সব জনবলকে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সুদক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা