kalerkantho

শুক্রবার । ৮ মাঘ ১৪২৭। ২২ জানুয়ারি ২০২১। ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ

দুর্নীতির তদন্ত শুরু প্রশ্নবিদ্ধ জিজ্ঞাসাবাদ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হবিগঞ্জে নবপ্রতিষ্ঠিত শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরেজমিন তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত এক সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব (নির্মাণ ও মেরামত অধিশাখা) মো. আজম খান। তবে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি এবং অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সামনে অন্য কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

সকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে প্রবেশ করার পর সেখানে ছিল পুলিশ মোতায়েন। কোনো সাংবাদিক ও সাধারণ লোকজনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষের কক্ষে বসেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় ছুটিতে থাকলেও অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান, টেন্ডার কমিটির সদস্যসচিব ডা. নাসিমা খানমসহ কমিটির কয়েকজন সদস্য উপস্থিত হন। তবে টেন্ডার কমিটির সদস্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি, এলজিইডির প্রতিনিধি, সাবেক সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন না। যুগ্ম সচিব আজম খান তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং টেন্ডারের বিভিন্ন কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। যেসব পণ্যের দাম নির্ধারিত মূল্যের অনেক বেশি দেখানো হয়েছে, তিনি সেগুলো দেখেন ও নিজে ছবি তোলেন। এর আগে মঙ্গলবার শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে যায় দুদক। তারা সেখানে দীর্ঘক্ষণ ধরে ক্রয় করা জিনিসপত্র খতিয়ে দেখে। বিভিন্ন মালের ছবিও উঠিয়ে নেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় টেন্ডারের বেশ কিছু দলিল জব্দ করেন তাঁরা।

শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের এ টেন্ডার জালিয়াতির তীর ছিল অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ানের দিকে। অভিযুক্ত ছিলেন টেন্ডার কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. নাসিমা খানম ইভা। গণমাধ্যমে এ দুর্নীতির সংবাদ আসার পর উধাও ছিলেন অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান। ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানানো হয়। এ সময়ের মধ্যে ডা. নাসিমা খানম ইভাও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে বৃহস্পতিবার তদন্ত টিম আসার কথা শুনেই হবিগঞ্জে আসেন ডা. আবু সুফিয়ান। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তিনি ছিলেন তাঁর নির্ধারিত কক্ষে। ডা. নাসিমা খানমও উপস্থিত হন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আজম খান অধ্যক্ষের চেম্বারে বসেই শুরু করেন তদন্ত কাজ। তাঁর সামনেই সদস্য এবং অফিসের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। এ কারণে অফিস প্রধানের সামনে সঠিক বক্তব্য প্রদান করতে অস্বস্তিতে ছিলেন তাঁরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, আলাদাভাবে বক্তব্য প্রদান করলে তাঁরা বিস্তারিত বলতে পারতেন। অফিসের প্রধানকে সামনে রেখে বলতে তাঁরা বিব্রত হন।

কমিটির অন্যতম সদস্য ও হবিগঞ্জের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী ছিলেন অনুপস্থিত। অথচ তিনি এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ ব্যাপারে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী বলেন, ‘সরকার আমাকে টেন্ডার কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করলেও আমাকে না জানিয়েই টেন্ডার কমিটির মিটিং এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে আমার দস্তখতের জন্য চিঠি প্রেরণ করা হলে আমি তাতে দস্তখত দিইনি। যেহেতু সরকার আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেছিল, তাই আমি কেন উপস্থিত থাকতে পারিনি তার ব্যাখ্যার জন্য চিঠি দিয়েছিলাম।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা