kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জানুয়ারি ২০২০। ১৬ মাঘ ১৪২৬। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

জব্দ সুপারি নিলামে দুর্নীতির অভিযোগ বিজিবির বিরুদ্ধে

ফরিজলের দাবি, বিজিবি অবৈধভাবে তাঁর বাড়ি থেকে সুপারি নিয়ে গেছে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জোয়ানদের জব্দ করা ২০৮ বস্তা ভারতীয় সুপারি নিলামে বিক্রিতে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজীবপুরের বালিয়ামারী বিজিবি ক্যাম্পে ওই সুপারি নিলামে বিক্রি করা হয়।

নিলামে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ব্যবসায়ী শফিয়ার রহমানের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা আখতার হোসেন। ফলে গতকালের নিলামে বাকি ব্যবসায়ীদের দর হাঁকার কোনো সুযোগই দেননি ওই কর্মকর্তা। প্রায় ১০ লাখ টাকার সুপারি মাত্র চার লাখ টাকায় শফিয়ারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। রাজীবপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ওই সুপারি নিলামের আগে কোনো প্রচার চালানো হয়নি। ফলে নিলাম হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন।

বালিয়ামারী বিজিবি ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার ব্যাপারিপাড়ার ফরিজল হকের বাড়ি থেকে ২০৮ বস্তা ভারতীয় সুপারি জব্দ করেন বিজিবি জোয়ানরা। বর্ডার হাট থেকে কিনে ওই সব সুপারির বস্তা অবৈধভাবে মজুদ করা হচ্ছিল বলে বিজিবির অভিযোগ। কিন্তু ফরিজলের দাবি, বর্ডার হাটে সুপারি কেনা বিভিন্ন ক্রেতার কাছ থেকে তিনি ওই সুপারি কিনে নিয়েছেন। বিজিবি ‘অবৈধভাবে’ তাঁর বাড়ি থেকে সুপারি নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে তিনি বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বিজিবি ও কাস্টম সূত্রে জানা গেছে, বিজিবির হাতে আটক ২০৮ বস্তা ভারতীয় সুপারির সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় সাড়ে আট লাখ টাকা। প্রতি বস্তায় দুই হাজার করে সুপারি রয়েছে। বাজারে দুই হাজার পিস সুপারির দাম ছয় হাজার টাকার ওপরে। এ হিসেবে ২০৮ বস্তা সুপারির দাম ১০ লাখ টাকার ওপরে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকবর হোসেন বলেন, ‘বর্ডার হাট একটা বৈধ হাট। এখানে সরকারি নিয়ম অনুসারে ক্রোতারা সুপারি কিনেছেন। এগুলো বিজিবি জোয়ানরা কোনোক্রমেই আটক করতে পারেন না।’ একই মত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসানেরও।

এ ব্যাপারে বালিয়ামারী বিজিবি ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার আব্দুল কাদের বলেন, ‘একজন ক্রেতা পাঁচ বস্তা সুপারি কিনতে পারেন। সেখানে একজনের বাড়িতে ২০৮ বস্তা সুপারি থাকতে পারে না।’

নিলামে অনিয়মের অভিযোগের ব্যাপারে কাস্টমস কর্মকর্তা আখতার হোসেন বলেন, ‘এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি একেবারেই মিথ্যা। প্রকাশ্য নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছেই নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। নিলামের পরে কে কী বলল, তা আমার দেখার সময় নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা