kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জানুয়ারি ২০২০। ১৬ মাঘ ১৪২৬। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

তেলের খাবারে বিপজ্জনক ট্রান্স ফ্যাটি এসিড!

তৌফিক মারুফ   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে প্রচলিত ফাস্ট ফুড, বেকারি আইটেম, পথখাবার কিংবা রেস্তোরাঁয় ভাজা-রান্নাজাত খাদ্যের চাহিদা ও বাণিজ্য দিনে দিনে বাড়ছেই। এসব খাদ্য উপাদেয় করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয় তেল। তবে এই তেলের বেশির ভাগই ডালডা বা বনস্পতি। ভোক্তাদের মধ্যে এসব খাদ্যে কী তেল বা উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে তেমন কোনো মাথাব্যথা না থাকলেও বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন এর প্রভাবে মারাত্মক বিপদের প্রশ্নে। তাঁরা বলছেন এসব খাদ্যে ব্যবহৃত ডালডা বা বনস্পতির ভেতরে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত থাকে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য নানা ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। এসব খাবার গ্রহণের পরিণামে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার চরম ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কালের কণ্ঠকে বলেন, উচ্চমাত্রায় ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের কারণে সার্বিকভাবে মৃত্যুঝুঁকি ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ছোট পরিসরে হলেও কাজ শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। সরকারও এই বিপদ থেকে মুক্তির জন্য নানা উদ্যোগের কথা বলছে। এরই মধ্যে সরকার নানাভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে থেকে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ট্রান্স ফ্যাট প্রজেক্টের সমন্বয়কারী ডা. শেখ মো. মাহবুবুস সোবহান জানান, দেশে ট্রান্স ফ্যাট ব্যবহারের পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালে ঢাকায় গবেষণাধর্মী একটি সার্ভে করা হয়েছিল। তখন ঢাকার স্থানীয় বাজার থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে সংগৃহীত ১২ ধরনের বেকারি বিস্কুট নিয়ে পরিচালিত ওই গবেষণায় ৫ থেকে ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা মাত্রার চেয়ে (সহনীয় মাত্রা মোট ফ্যাটের অনূর্ধ্ব ২ শতাংশ) অনেক বেশি। ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহায়তায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর নিউট্রেশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স যৌথভাবে এ গবেষণা পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া চলতি বছর আরো একটি বড় ধরনের সার্ভে হয়েছে। শিগগিরই এর ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির গবেষক আবু আহমেদ শামীম বলেন, গবাদি পশু-প্রাণীর অন্ত্রে প্রাকৃতিকভাবে ট্রান্স ফ্যাট উৎপন্ন হয়, যা ওই সব গবাদি পশুর মাংস, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার—ঘি, মাখনে পাওয়া যায়। এ ছাড়া কৃত্রিম বা আংশিক জারিত তেল হিসেবে ভেজিটেবল অয়েলের (পাম, সয়াবিন) সঙ্গে হাইড্রোজেন যুক্ত করার মাধ্যমে ট্রান্স ফ্যাট উৎপন্ন হয়।

যদিও সরকারের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত এমন ট্রান্স ফ্যাট প্রতিরোধমূলক কোনো কার্যক্রমে হাত দেয়নি। ওই অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কার্যক্রম) আফরোজা রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা তেল বা অন্য অনেক উপাদানের বিষয়েই বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছি ও করছি। কিন্তু এই ট্রান্স ফ্যাট নিয়ে কোনো কাজ এখন পর্যন্ত আমাদের নেই। থাকলে আমার নজরে আসত।’

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের  বলেন, ‘ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাদ্য বা পণ্যের ব্যবহারের বিপদ নিয়ে প্রচারণা বা অন্য কোনো জোরালো পদক্ষেপ আমরা আশা করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা