kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বেরোবি ভর্তি পরীক্ষা

অস্বাভাবিক নম্বর পেয়ে প্রথম হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন

বেরোবি প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটের তৃতীয় পালায় (শিফট) প্রথম হওয়া এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক নম্বর পাওয়া নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে। ওই পালায় প্রথম হওয়া ভর্তি পরীক্ষার্থী মিশকাতুল জান্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইমরানা বারীর ছোট বোন। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সব ধরনের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে প্রায় ৫০ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরসহ রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষকরা।

প্রসঙ্গত, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা প্রতিটি ইউনিটে একাধিক পালায় অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিটি পালার পরীক্ষার ফল আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়।

নিজের ছোট বোনের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা, অন্যদিকে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইমরানা বারী ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমে সরাসরি কিভাবে জড়িত থাকতে পারেন সে ব্যপারে কথা তুলেছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তাঁরা বলছেন, ভর্তি পরীক্ষায় সিনিয়র শিক্ষকদের বাদ দিয়ে একেবারে নতুন এবং জুনিয়র শিক্ষকদের ইউনিট সমন্বয়ক বানানো হয়েছে। প্রশ্নপত্র মডারেশন, এমনকি ভর্তি পরীক্ষা কিভাবে নেওয়া লাগে সে বিষয়ে তাঁরা জানেন না বলেও অভিযোগ করছেন সেই অনুষদের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিশকাতুল জান্নাত ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’, ‘বি’ ও ‘এফ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত ১৯ নভেম্বর সব ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ‘বি’ ইউনিটের (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) তৃতীয় পালার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে সে। তার নম্বরের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে মিশকাতুল জান্নাত এমসিকিউয়ে ৮০-এর মধ্যে ৬৭.২৫০ পেয়েছে, যা অন্য কোনো ইউনিটে আর কেউ পায়নি। তার ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার রোল ২৪০২৭৮। অথচ ‘এ’ ইউনিটের তৃতীয় শিফটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে (রোল-১৪১৭৫২) অকৃতকার্য হয় মিশকাতুল জান্নাত। একইভাবে ‘এফ’ ইউনিটেও চতুর্থ শিফটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে (রোল-৬৪১৭৫১) অকৃতকার্য হয় সে।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ইমরানা বারীর সঙ্গে তিন দিন ধরে তাঁর মোবাইল ফোনে, এমনকি তাঁর অফিস কক্ষেও যোগাযোগ করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়ক সহকারী অধ্যাপক সোহেলা মুসতারীর কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গেলে তিনি নির্দোষ এবং কে কী করেছে, তা তিনি জানেন না বলে কথা না বলেই স্থান ত্যাগ করেন।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘দুটি ইউনিটে ফেল এবং একটি ইউনিটে অস্বাভাবিক পরিমাণ নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে আমরা গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা আসলে বিব্রত বোধ করছি। বিষয়টা যেহেতু ইউনিটের, সেহেতু বিষয়টা ইউনিট সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খতিয়ে দেখবেন বলে আশা করি।’ কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘শিক্ষকদের অভিযোগপত্র পেয়েছি। উপাচার্য দেশের বাইরে আছেন। তাঁকে বিষয়টি জানানো হবে। তিনি কী সিদ্ধান্ত নেবেন সে ব্যাপারে তিনি ভালো জানেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা