kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

বুয়েটের আন্দোলনে ইতি

ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ দুই মাস ধরে অচলাবস্থা শেষে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তুলে ধরা সুনির্দিষ্ট তিনটি দাবি কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করায় তাঁরা আন্দোলনে ইতি টেনে ক্লাস ও পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল বুধবার বিকেলে ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুরু থেকেই সচেষ্ট থাকায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।

বুয়েটের শেরেবাংলা হলে গত ৬ অক্টোবর শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরদিন থেকে হত্যাকাণ্ডে যুক্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারসহ ১০ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় না বসার ঘোষণা দেন তাঁরা। আন্দোলনের কারণে ১৮ অক্টোবর বুয়েটের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা পেছাতে বাধ্য হয় বুয়েট কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরে দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলেই কেবল পরীক্ষায় বসার ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কার, র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি এবং পরবর্তী সময়ে র‌্যাগিং ও সাংগঠনিক রাজনীতিতে যুক্ত হলে শাস্তির বিধান জারি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ভিত্তিতে অবশেষে আন্দোলনে ইতি টেনে আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান সায়েম। তাতে বলা হয়, আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ১০ দফার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এর মধ্যে ১৫ অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে আন্দোলন দুই দিনের জন্য শিথিল করা হয়। একপর্যায়ে ১৬ অক্টোবর গণ-শপথের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের আন্দোলন তুলে নেওয়া হয়। সায়েম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে কোনো অপশক্তি যাতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে না পারে ও প্রশাসন যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে সে জন্য আমরা মাঠের আন্দোলন থেকে সরে আসি। আন্দোলন তুলে নিলেও আমরা নিয়মিত বুয়েট প্রশাসনের কাছ থেকে দাবিগুলোর অগ্রগতির আপডেট নিই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা