kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

সব ভোগ্যপণ্যেই ভুগছে ভোক্তা

দেশি পুরনো পেঁয়াজ পাইকারিতে ২৪০ ও নতুন ১৮০ টাকা ♦ চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, মসলার বাজারও চড়া

রফিকুল ইসলাম   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সব ভোগ্যপণ্যেই ভুগছে ভোক্তা

পেঁয়াজ নিয়ে ভোগান্তি যেন শেষ হওয়ার নয়। সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকঢোল পিটিয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেসব কোনোই কাজে আসছে না। দেশি পুরনো পেঁয়াজের কেজি পাইকারি বাজারেই ২৪০ টাকা। নতুন পেঁয়াজও দামে পিছিয়ে নেই, ১৮০ টাকা কেজি। সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের বাজারও। চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, আলু, আটা/ময়দার দাম বেড়েছে। শুকনো মরিচ, হলুদ, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা ও ধনিয়ার দামও বেশি।

শীতের সবজিতে বাজার ভরা। দিন দিনই সরবরাহ বাড়ছে রাজধানীর বাজারে। তবু দাম কমার লক্ষণ নেই। আমন মৌসুমে সারা দেশে ধান উঠতে শুরু করেছে। কৃষকের ধানের দাম পাওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যেই হঠাৎ করে চালের দাম কেজিতে দুই-তিন টাকা বেড়ে গেছে।

নিত্যদিনের অতি প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতাসাধারণ দিশাহারা। প্রতিটি পণ্য কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। ভোগ্যপণ্যের বাজারে কবে স্বস্তি ফিরবে এমন প্রশ্ন সবার মুখে মুখে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আড়ত বা পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বেশি। এ জন্য তাঁদেরও চড়া দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার আড়তদার ও পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, মোকাম বা দেশের বাইরে থেকে পণ্যের সরবরাহ অপর্যাপ্ত।

সবজির পাইকারি বিক্রেতাদের অজুহাত—শীত মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সরবরাহ মিলছে না। এক সপ্তাহ আগের চেয়ে সবজির সরবরাহ বেড়েছে, দামও কমছে। এক বিক্রেতা জানালেন, এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি শিম পাইকারিতে বিক্রি হতো ৪০ টাকা, এখন তা ৩০ টাকা। ফুলকপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়।

পাইকারি চালের আড়তদাররা বলছেন, মিলগেটে বস্তাপ্রতি চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন ধান উঠলেও বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। বাড্ডার চালের আড়তদাররা জানান, মিনিকেট ও আটাশ চালের দাম বস্তায় ১০০-১৫০ টাকা বেড়েছে। সে হিসাবে কেজিতে বেড়েছে দুই-তিন টাকা। আর পাইজাম চালের দাম বস্তায় বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চালের দাম কেজিতে দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। এক মাস আগে এই চালের দাম ছিল ৪৫-৫৬ টাকা কেজি। সে হিসাবে এক মাসে কেজিতে দাম বেড়েছে ৮.৯১ শতাংশ। তবে মোটা চালের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দুই টাকা কমেছে। মাসের ব্যবধানের প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৭.১৪ শতাংশ বেড়ে ২৮-৩২ টাকা আর খোলা ময়দার দাম ৬.৯৮ শতাংশ বেড়ে ৩৭-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্য তেলের মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পামঅয়েলের দাম। ৬২-৭০ টাকা থেকে বেড়ে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৭০-৭৫ টাকা। সে হিসাবে বৃদ্ধির হার ৯.৮৫ শতাংশ। পাইকারি বাজারে এক মাসের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩০ টাকায়।

মসলার মধ্যে পেঁয়াজ ছাড়াও দাম বেড়েছে শুকনো মরিচ, হলুদ, জিরা, এলাচ, ধনিয়া ও তেজপাতার। দেশি নতুন পেঁয়াজ উঠলেও দাম চড়া। পাইকারিতে দেশি পুরনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়, যা খুচরা বাজারে ২৫০-২৬০ টাকা। নতুন দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে এক পাল্লা ৯০০ টাকা, প্রতি কেজিতে দাম পড়ছে ১৮০ টাকা। খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। বছরের হিসাবে দেশি পেঁয়াজের দাম ৫৯২ শতাংশ আর আমদানি পেঁয়াজ ৫৬০ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম ৮৩ শতাংশ আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ।

মাসের হিসাবে রসুনের দাম বাড়তির দিকে থাকলেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি ও আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে।

এলাচের দাম সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৬০০ টাকা। ২৪০০-৩০০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০০-৩৬০০ টাকায়। তেজপাতা কেজিতে ২০ টাকা করে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৬০ টাকা। ধনিয়া কেজিতে ১৫ টাকা করে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৫-১৫০ টাকা। শুকনো মরিচের দাম মাস ব্যবধানে ১৬.২৮ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০-৩২০ টাকায়।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো পণ্যের জোগান কম ও চাহিদা বেশি থাকলেই দাম বাড়ে। কিন্তু দেশে মাঝে মাঝে কোনো কারণ ছাড়াই দাম বাড়ানো হয়। মূলত অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীচক্র সংঘবদ্ধভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। এ অবস্থায় ভোক্তার স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা