kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

‘বাণিজ্যমন্ত্রীর অপসারণ পর্যন্ত আছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘বাণিজ্যমন্ত্রীর অপসারণ পর্যন্ত আছি’

‘প্রতিদিন সংসার চালাতে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। আমার আয় তো বাড়ছে না। কিভাবে চলব? দিশা পাই না। মুখে মুখে সবাই বিরক্ত। কেউ প্রতিবাদ করে না। তাই বসে গেলাম। কী হবে জানি না। নিজেকে বুঝ দিতে পারব, এটাই শান্তি।’

কথাগুলো বলছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একাই অনশনে বসা ২৭ বছর বয়সী আরমান হোসেন পলাশ। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে অনশন শুরু করেন তিনি। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তাঁর সঙ্গে কথা হয় কালের কণ্ঠ’র। পলাশ বাণিজ্যমন্ত্রীর অপসারণ চান। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বলেই পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম আজ আকাশছোঁয়া।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদকের উদ্দেশে পলাশ আরো বলেন, ‘একা প্রতিবাদ করে লাভ কি? আপনিও আসেন না। এলেই তো দুজন হয়। আমরা এভাবে সবাই নিজেদের একা ভাবি। তাই সরকার কোনো গুরুত্ব দেয় না। সংবিধান অনুযায়ী জনগণ দেশের মালিক। কিন্তু জনগণ সেটা অনুভব করে না। আমি কোনো রাজনৈতিক দলে নেই, কিন্তু সংবিধান পড়ি। আমার অধিকার আমি অনুভব করি। এ কারণেই একা প্রতিবাদ করার সাহস পাই।’ তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে কেউ কেউ পাশে বসেছেন, আবার চলেও গেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর অপসারণ পর্যন্ত আমি আছি।’

এইচএসসি পাস করা পলাশ বাবার চাকরি সূত্রে গাজীপুরে বেড়ে উঠেছেন। জেলার ক্রিকেট টিমেও ছিলেন। ২২ বছর বয়সে প্রেমের বিয়েতে সংসার। তিনি বলেন, ‘আমরণ অনশনে বসেছি। রাতেও থাকব। কী হয় জানি না। কিন্তু প্রতিবাদ করেই যাব।’

পলাশের পৈতৃক বাড়ি খুলনার খালিশপুরে। বাবা, মা, স্ত্রী, দুই সন্তানসহ থাকেন গাজীপুরে। পল্টন মোড়ের সামনে ফুটপাতে দোকানদারি করেন। পলাশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দৈনিক আয় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। চাঁদা দিতে হয় ২০০ টাকা। প্রতিদিন গাজীপুর থেকে আসা-যাওয়ায় খরচ আরো ১০০ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা