kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

সামরিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তাড়া যুক্তরাষ্ট্রের

মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করেছে পেন্টাগন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সামরিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তাড়া যুক্তরাষ্ট্রের

এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে এসে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। পেন্টাগনের ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তাবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি র‌্যান্ডল জি শ্রাইভার গত মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় দেড় দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুহম্মদ সাইফুল আবেদীনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সফর শেষে গতকাল বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ ছাড়ার আগে স্থানীয় একটি হোটেলে কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে র‌্যান্ডল জি শ্রাইভার বলেন, “প্রতিরক্ষা অংশীদারি জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (জিসোমিয়া) ও অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্টকে (আকসা) আমরা সম্পর্ক আরো জোরদারে ভিত্তি চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছি। এগুলো আরো সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও আরো স্পর্শকাতর প্রযুক্তি এবং সক্ষমতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। আকসার মাধ্যমে পরস্পরের ‘লজিস্টিক্যাল’ সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

র‌্যান্ডল জি শ্রাইভার সফরকে ‘ফলপ্রসূ’ উল্লেখ করে জানান, অনেক ইস্যুতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের অবস্থানের সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রত্যাশা কী, যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে বাংলাদেশের ভালো অংশীদার হতে পারে সে বিষয়গুলো তিনি জানার চেষ্টা করেছেন।

প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো সই করতে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে কোনো তাড়া আছে কি না, জানতে চাইলে পেন্টাগনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা এটি সঠিকভাবে করতে চাই। আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যাপারে পারস্পরিক আস্থা চাই। আমরা আরো সহযোগিতা করতে চাই। আর এ জন্যই তাড়ার বিষয়টি আসছে। আমরা সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো (জিসোমিয়া ও আকসা) আরো সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এখন যে সহযোগিতা আছে তাতে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতেই আমাদের তাড়া।’

র‌্যান্ডল জি শ্রাইভার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের’ উদ্দেশ্য চীনের ‘বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ’কে টেক্কা দেওয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অংশগ্রহণমূলক। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে অর্থনৈতিক, সুশাসন, নিরাপত্তাসহ বেশ কিছু ভিত্তি আছে। সেখানে সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক রীতি ও আইনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ওই কৌশলে বিরোধ নিরসন ও পারস্পরিক অবাধ-ন্যায্য বাণিজ্যের কথা বলা হয়েছে। এসব নীতি সমর্থন করতে পারলে চীনকেও আমরা আমাদের (ইন্দো-প্যাসিফিক) অংশীদার হতে স্বাগত জানাই।”

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পটভূমিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ কী অর্থ বহন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সম্পর্ক জোরালো। আমরা একে আরো জোরালো করতে চাই। আমি এ সফরে বাংলাদেশের প্রত্যাশাগুলো জানার চেষ্টা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘কেউ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন হলে তা দুই দেশেরই উদ্বেগের কারণ হবে। যুক্তরাষ্ট্র চায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকবে। অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কিছু নেই।’

রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা, জেনোসাইড চালানো মিয়ানমার বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পেন্টাগন কী উদ্যোগ নিচ্ছে এবং মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক কেমন—কালের কণ্ঠ’র এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যান্ডল জি শ্রাইভার বলেন, ‘নৃশংসতার কারণে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা এখন খুবই কম। প্রাথমিকভাবে এখন তাদের সঙ্গে আমাদের বহু পক্ষীয় ফোরামে যেমন যুক্তরাষ্ট্র-আসিয়ান সামরিক অনুশীলনে দেখা হয়। যেমন দুই-তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক অ্যাসপার ব্যাংককে আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে মিয়ানমারও ছিল। কিন্তু তিনি মিয়ানমারের প্রতিনিধির সঙ্গে আলাদাভাবে কোনো বৈঠক করেননি। মিয়ানমার বাহিনীকে তাদের আচরণ/কর্মকাণ্ড বদলাতে যে ধরনের সুযোগ আছে সেগুলোর আওতায় আমরা চাপ সৃষ্টি করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা