kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

নতুন সড়ক আইনে সীমিত পরিসরে মামলা শুরু

‘উল্টো পথে এসে ভুল করেছি, আর এ রকম হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চোখের নাগালে ট্রাফিক সার্জেন্ট নেই। আশপাশে তাকিয়ে এদিক-ওদিক দেখে নিলেন তিনি। এর পরই উল্টো পথ দিয়ে সামনের দিকে এগোতে শুরু করলেন মোটরসাইকেল আরোহী আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বেশিদূর যেতে পারলেন না। কিছুদূর যেতেই সামনে এসে দাঁড়ান এক ট্রাফিক কনস্টেবল, এবার থামতেই হলো তাঁকে। অদূরে থাকা সার্জেন্ট শফিউল আলম রাজিবসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যও এবার এগিয়ে এলেন। আইন অমান্য করার কারণ জানতে চাইলেন সবাই তাঁর কাছে। সঠিক জবাব দিতে পারছিলেন না আজাদ।  এ সময় তাঁকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নতুন ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সার্ক ফোয়ারা ট্রাফিক মোড়ের চিত্র এটি। তবে এই চিত্র এখন রাজধানীর সব এলাকার। নতুন সড়ক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ডিএমপি ট্রাফিকের চারটি বিভাগ গত শনিবার থেকে সীমিত পরিসরে সড়ক আইন ভঙ্গকারীদের মামলা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। গত ১ নভেম্বর থেকে নতুন আইনটি কার্যকর হলেও পুলিশ এত দিন আইন লঙ্ঘনকারীদের মামলা দেওয়া থেকে বিরত ছিল। নতুন আইন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই কয়েক দিনের জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয় গত বছরের ২৯ জুলাই। আরো অন্তত ৯ জন ওই ঘটনায় আহত হয়। পরে শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের’ মুখে সরকার ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস করে। আর এটি কার্যকর করতে এক বছরের বেশি সময় লেগে যায় মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপে। অবশেষে গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর শুরু হয় নয়া আইন। এ আইনের বেশির ভাগ ধারায় জরিমানা ১০ থেকে ১৫ গুণ বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে এই আইনে কারাদণ্ডের বিধানও বাড়ানো হয়েছে। তবে নতুন আইন নিয়ে শ্রমিক আন্দোলন এখনো অব্যাহত আছে। 

 

ডিএমপিতে বর্তমানে ট্রাফিকের ২৩টি অঞ্চল রয়েছে। শুরু থেকেই নতুন আইন সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে প্রতিটি অঞ্চলেই। সেই সঙ্গে খুব সাবধানতার সঙ্গে সীমিত পরিসরে মামলার প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর জন্য টিম গঠন করা হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের প্রতিটি অঞ্চলে। প্রাথমিকভাবে মামলা দেওয়ার কাজ করছে এই টিমগুলোই।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগগুলোর তথ্য মতে, গত শনিবার থেকে গতকাল পর্যন্ত ডিএমপির চারটি ট্রাফিক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ৩০ থেকে ৪০টি মামলা হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এটি আরো বাড়ানো হবে। বিশেষ করে, মামলা দেওয়ার পজ (পয়েন্ট অব সার্ভিস) মেশিনগুলো প্রস্তুত হয়ে গেলে মামলার সংখ্যা আরো বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

নতুন আইনে গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে উল্টো পথে আসা তিনটি মোটরসাইকেলের চালককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করে মামলা দেয় ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগ। এ ছাড়া গত রবিবার, সোমবার এবং গতকালও গুলশান, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মিরপুর, মতিঝিল ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নতুন আইনে মামলা হয়। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ছাড়াও বাস, অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধেও মামলা ও জরিমানা করা হয়।

জানতে চাইলে ট্রাফিক উত্তর বিভাগের উপকমিশনার প্রবীর কুমার রায় গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, নতুন আইনে পরিস্থিতি বুঝে মামলা দিতে শুরু করেছেন তাঁরা। তবে আইন মেনে চললে মামলা দেওয়া হবে না। যাতে সবাই আইন মেনে চলে, তাই সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার জয়দেব চৌধুরীসহ পূর্ব বিভাগের উপকমিশনার সাহেদ আল মাসুদ, পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের সবাই জানিয়েছেন, যারা উল্টো পথে চলাচল করছে, যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই, তাদের মামলা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা