kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ট্রাইব্যুনালে জঙ্গি রিগ্যান

পথে কেউ একজন আমাকে আইএসের টুপি দেয়

জাহাজবাড়ি মামলায় পলাতক আসামিকে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও জবি প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার রায় ঘোষণার দিন জঙ্গি রকিবুল হাসান রিগ্যানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় পথে ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন তাঁকে কথিত আইএসের টুপি দেয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি গতকাল মঙ্গলবার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারককে এ কথা বলেছেন।

রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান ও হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অন্য আসামিদের সঙ্গে রিগ্যানকেও গতকাল ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার শুনানির একপর্যায়ে বিচারক মো. মজিবুর রহমান আসামি রিগ্যানকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেন, ‘আইএসের টুপি কোথায় পেয়েছিলেন?’ উত্তরে রিগ্যান বলেন, ‘কারাগার থেকে আদালতে আসার পথে ভিড়ের মধ্যে অপরিচিত কেউ একজন আমাকে টুপিটি দেয়।’ কে দিয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে রিগ্যান আরো বলেন, ‘চিনি না’। টুপিটি নিলেন কেন—ট্রাইব্যুনালের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কলেমা শাহাদাত লেখা ছিল বলে ভালো লাগায় টুপি নিয়েছিলাম।’ ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন করেন, ‘আর কাউকে কি টুপি দেওয়া হয়েছিল?’ উত্তরে রিগ্যান বলেন, ‘আর কাউকে দেওয়া হয়নি। প্রিজন ভ্যানে তোলার পর আমার টুপি নিয়ে রাজীব গান্ধী (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি) পরেছিলেন।’

গত ২৭ নভেম্বর হলি আর্টিজানে হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর জঙ্গি রিগ্যান আইএসের টুপি মাথায় দিয়ে আল্লাহু আকবর ধ্বনি দেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। টুপি কোথা থেকে এলো তা নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়। এ নিয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। এরই মধ্যে গতকাল আসামি রিগ্যান ট্রাইব্যুনালে এসে এ তথ্য জানান।

হলি আর্টিজান হামলা মামলার আসামিদের ওই কারাগার থেকে প্রথমে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে (মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাঁচ তলায়) নেওয়ার সময় প্রচণ্ড ভিড় ছিল। জঙ্গি রিগ্যানের বক্তব্য সত্যি হিসেবে ধরে নিলে এটা স্পষ্ট যে ওই সময় কেউ তাঁকে টুপিটি দিয়েছে।

এদিকে জাহাজবাড়ি জঙ্গি আস্তানার ঘটনায় দায়ের করা মামলার শুনানি ছিল গতকাল। এই মামলায় মোট ১০ জন আসামির মধ্যে দুজন জামিনে ও সাতজন কারাগারে আছেন। অন্য আসামি আজাদুল কবির ওরফে কবিরাজ ওরফে রাজ ওরফে আজাদ পলাতক।

জাহাজবাড়ি জঙ্গি আস্তানার মামলায় এর আগে গত ১৮ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন—সালাহ্ উদ্দিন কামরান, রকিকুল হাসান রিগ্যান, আব্দুর রউফ প্রধান, আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ওরফে সোলায়মান, মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে মামুন, আজাদুল কবিরাজ ওরফে হার্টবিট, মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর, আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে নাসরুল্লা হক ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে কুলমেন ও হাদিসুর রহমান সাগর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা