kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

ব্যবসায়ীদের মানবিক হতে বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

পদত্যাগে পেঁয়াজের দাম কমলে আপত্তি নেই

আমদানিমূল্যের তুলনায় বাজারে দাম এতটা বেশি যা হওয়ার কথা নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদত্যাগে পেঁয়াজের দাম কমলে আপত্তি নেই

ব্যবসায়ীদের মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, ‘ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি হওয়ায় বাজারে এর দাম বেশি। এর পরও বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু  আমদানিমূল্যের তুলনায় বাজারে দাম এতটা বেশি, যা হওয়ার কথা নয়। তাই আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা একটু মানবিক হোন। আর আমার পদত্যাগে যদি পেঁয়াজের দাম কমে, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে ব্যবসায়ীসমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময়সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে একটি হোটেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটি এ সভার আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ আমার পদত্যাগ দাবি করছেন। আমার পদত্যাগ সেকেন্ডের ব্যাপার মাত্র। তাতে যদি পেঁয়াজের দাম কমে, আমার আপত্তি নেই। এই মন্ত্রিত্ব কাজ করার জন্যে। ’

বাণিজ্যমন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, এফবিসিসিআইয়ের কয়েকজন পরিচালক, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে অল্প সময়ের মধ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণ তুলে ধরে টিপু মুনশি বলেন, বছরের শেষ দিকে প্রতি মাসে এক লাখ টন পেঁয়াজ আসে। ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় এসেছে ২৫ হাজার টন করে। মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসত, সেখানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। এই অঞ্চলের সব দেশেই পেঁয়াজের দাম চড়া।

সংকটের সময় সরকারের অনুরোধে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ আমদানি করায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই পেঁয়াজে খরচ পড়েছে প্রতি কেজি সাড়ে ৪২ টাকা। এই পেঁয়াজ টিসিবিকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর বাইরে অনেকে আমদানি করছে। সেটা তো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এই মুনাফালোভীদের তিনি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বাজারকে লাগামহীন পাগলা ঘোড়া হতে দেওয়া যাবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎসব-পার্বণে পণ্যের দাম কমলেও আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা রোজা এলে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া করে তোলে। এমনটা হতে দেওয়া যাবে না।’ তিনি বলেন, প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের প্রচুর সরবরাহ থাকার পরও এতটা দাম বাড়ার কথা নয়। এই সরকার জনগণের সরকার। আপনারা যদি পণ্যের দাম কমিয়ে আনতে ব্যর্থ হন, জনগণের সরকার পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ৩০ থেকে ৩৫ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ টাকা হয়েছে। আশপাশের দেশেও দাম ১২০ টাকা। তবে দেশে ২৫০ টাকা হওয়ার কোনো কারণ নেই।

আওয়ামী লীগের শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্যসচিব আবদুস সাত্তার বলেন, ‘এক শ্রেণির লোভী ব্যবসায়ীর দেশের উন্নয়ন দেখে মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাদের লক্ষ্য কিভাবে সরকারকে ঠেকানো যায়। বাজার খারাপ করে ক্ষমতায় আসতে পারবে না তারা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা