kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

মাদক মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জের

ফরিদপুরে শিশুসহ চারজনকে কোপাল সন্ত্রাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফরিদপুরে শিশুসহ চারজনকে কোপাল  সন্ত্রাসীরা

ফরিদপুরে একটি মাদক মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ায় এক শিশুসহ চারজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ভাজনডাঙ্গা আদর্শ গ্রামের কাছে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

আহতরা হলেন ভাজনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর তারা ফকিরের স্ত্রী রহিমা বেগম (৬০), ছেলে মোহসিন ফকির (৩৫), নাতি শিপন ফকির (৩) ও প্রতিবেশী চা দোকানদার লাবলু চৌধুরী (৫০)। মোহসিন ফকির ও লাবলু চৌধুরীর ছেলে  আল-আমীন (২৮) ওই মাদক মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

ধারালো অস্ত্রের কোপে মোহসিন ফকিরের মাথা ও মুখে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে গত সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্য আহতরা ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

লাবলু চৌধুরীর ছেলে আল-আমীন বলেন, ‘আমার বাবা ভাজনডাঙ্গা স্কুলের পাশে চায়ের দোকান করেন। একই এলাকার ইসমাইল মল্লিকের ছেলে মিজান মল্লিক, আবুল মল্লিক ও মেয়ে জিয়াসমিনসহ নয়ন ও সিরাজ নামের আরো দুজন ধারালো অস্ত্র ছ্যানা, চাপাতি ও পাইপ নিয়ে এ হামলা চালায়।

আহত রহিমা বেগম জানান, নাতি শিপন ও ছেলের স্ত্রী শিউলিকে রক্ষা করতে গেলে হামলাকারীরা তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৮ জুন ইসমাইল মল্লিকের স্ত্রী মর্জিনাকে এক কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল। ওই ঘটনায় র‌্যাবের ডিএডি সোহরাবউদ্দিন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সাক্ষ্য দেন মোহসিন ও আল-আমীন। এ কারণে মর্জিনা বেগম ও তাঁর দলবল বিভিন্ন সময় সাক্ষীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল।

দেড় মাস আগে আরেকটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন মর্জিনা বেগম (৫০)। গত রবিবার তিনি জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হন। এর এক দিন পর সোমবার রাতে সাক্ষী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটল।

এ ঘটনার পর মর্জিনা বেগম ও তাঁর স্বামীসহ সবাই বাড়িতে তালা দিয়ে আত্মগোপন করেছে। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা