kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

বুড়িগঙ্গায় স্যুয়ারেজ লাইন

ওয়াসার দুই রকম প্রতিবেদনে ক্ষোভ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওয়াসার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে, বুড়িগঙ্গা নদীতে যে ৬৭টি প্রধান আউটলেট পতিত হয়েছে তার মধ্যে ঢাকা ওয়াসার ১৬টি। তবে এর আগে গত ১৮ জুন ওয়াসার দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াসার কোনো স্যুয়ারেজ লাইন বুড়িগঙ্গায় পতিত হয়নি। ওয়াসার দুই ধরনের প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। স্যুয়ারেজ লাইন নিয়ে বিআইডাব্লিউটিএর কাছে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের লেখা চিঠির ভাষাকেও শুভংকরের ফাঁকি বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।

ওয়াসার আইনজীবীকে আদালত বলেন, ‘একবার বললেন যে কোনো লাইন নেই। আবার বলছেন ১৬টি আছে। আপনাদের কোন রিপোর্ট সত্য? আদালতে কেন অসত্য রিপোর্ট দিলেন? আদালতে অসত্য তথ্য দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ। এটা শাস্তিযোগ্য।’

বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই মন্তব্য করেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) এক আবেদনের ওপর শুনানিকালে আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। ওয়াসার পক্ষে লিখিত জবাব দাখিল করেন ব্যারিস্টার এ এম মাছুম। তবে তিনি আদালতে না থাকায় আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর পক্ষে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট নাহিয়ান-ইবনে-সুবহান। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম।

এর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরানীগঞ্জের চররঘুনাথপুর, কামরাঙ্গীর চর, জিনজিরা, সদরঘাট, ওয়াইজঘাট, বাদামতলী, বাবুবাজার, মিটফোর্ড, শ্যামপুর, কদমতলী, ফতুল্লা, ধোলাইখাল, মিলব্যারাক, ফরিদাবাদ, গোসাইবাড়ী, মিলব্যারাক মাজার, লালবাগের সোয়ারীঘাট ও নলখোলা এলাকায় ৫০টি স্থান দিয়ে ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে দূষিত বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় ফেলা হচ্ছে। জবাবে ওয়াসার আইনজীবী স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন দিয়ে বুড়িগঙ্গার কোথাও বর্জ্য ফেলা হয় না। এই দুই প্রতিবেদন দেখার পর গত ১৭ নভেম্বর ওয়াসার এমডিকে শোকজ করেন হাইকোর্ট। আদালতের আদেশ অমান্য করা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ১৫ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়।

ওয়াসার এমডি হাইকোর্টে একটি জবাব দাখিল করে ২০১১ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায় যথাযথ বাস্তবায়ন না করায় নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তাঁর জবাবের সঙ্গে বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যানকে দেওয়া একটি চিঠিও তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, ‘আপনাদের প্রতিবেদনে ওয়াসার ৫৮টি স্যুয়ারেজ লাইন বুড়িগঙ্গা নদীতে পতিত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। সেগুলোর আউটলেট/উৎসমুখ ঢাকা ওয়াসা ও বিআইডাব্লিউটিএর প্রতিনিধিদের সরেজমিনে যৌথ পরিদর্শনে দেখিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হলো।’ এই প্রতিবেদন দেখে আদালত বলেন, এটা তো শুভংকরের ফাঁকি। দায়িত্ব এড়ানোর জন্য এ ধরনের প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

শুনানিতে আদালতে অসত্য প্রতিবেদন দেওয়ায় ওয়াসার দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে শুনানিকালে ওয়াসার মূল আইনজীবী না থাকায় আদালত আজ মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

এইচআরপিবির করা এক রিট মামলায় হাইকোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া নদীর পানি যাতে দূষিত না হয় সে জন্য সব ধরনের বর্জ্য ফেলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখনো কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে তরল বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। এইচআরপিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুনানি হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা