kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগ

দাপুটে অনুপ্রবেশকারী কোণঠাসা ত্যাগী

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনে অনুপ্রবেশকারীদের কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা এসব অনুপ্রবেশকারী নব্য আওয়ামী লীগার বনে গিয়ে সংগঠনটির প্রকৃত নেতাকর্মীদের বেকায়দায় ফেলছে। গোয়েন্দা সংস্থা এরই মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। ওই তালিকা ধরে অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের কারা দলে ভিড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, নব্য আওয়ামী লীগারদের কারণে দলের ভেতরে ঘটছে একের পর এক সংঘর্ষ, বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা। আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান ঢাকার মতো তৃণমূলেও শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা। সেই লক্ষ্যে এরই মধ্যে কাজ চলছে। স্থানীয় নেতারাও অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে সতর্ক। তাদের বক্তব্য হলো, ২০০৯ সালের পর থেকে যারা আওয়ামী লীগে ঢুকেছে তারা সবাই আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী। তাদের আওয়ামী লীগে সদস্য করা হবে না। প্রয়োজনে তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেছেন, ‘হাইব্রিড় নেতাদের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার। আগামীতে কোনো কমিটিতে যেন তারা ঢুকতে না পারে সেদিকে আমরা নজর রাখছি।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মজিবুর রহমান বলেন  ২০০৯ সালের পর যারা দলে ঢুকেছে তারা অনুপ্রবেশকারী। তারা কোনো পদ পাবে না। তবে অনেকেই জান বাঁচাতে বিএনপিতে গিয়েছিল তাদের কেউ কেউ বিএনপিতে যাওয়ার আগে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গদল করত, আওয়ামী লীগকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে আবারও আওয়ামী লীগে ফিরে এসেছে, তবে তারা অনুপ্রবেশকারী নয়।  সরাসরি বিএনপি থেকে যারা এসেছে তারাই অনুপ্রবেশকারী, প্রয়োজনে যাচাই-বাছাই শেষে দলে তাদের স্থান হবে না। তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দুর্নীতিবাজ, মাদক, সন্ত্রাসীরা যেন দলে ভিড় করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভুঁইয়া রাজু বলেন, ‘হাইব্রিডরা আমাদের দলে মিশে নানা ধরনের সুবিধা নিচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাশাপাশি পদপদবির জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। তিনি বলেন, যারা দলে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে এসেছে তারা দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে বিএনপি-জামায়াতের কাছে দলীয় তথ্য পাচার করছে।’ 

এ ব্যাপারে থানা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, অনুপ্রবেশকারীদের কারণে দলের বদনাম হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ  বলেন, ‘যারা দল ছেড়ে চলে গেছে তারা আমাদের দলের জন্য মঙ্গলজনক ছিল না, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশে শুদ্ধি অভিযানে তারা যদি বাদ পড়ে কিংবা বহিষ্কার হয় সে ক্ষেত্রে আমরাও তাদেরকে আর বিএনপিতে ফেরাব না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা