kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রসচিব

প্রত্যাবাসন ও বিচার পরস্পরের পরিপূরক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এবং তাদের ওপর নিপীড়নের বিচার—দুটি উদ্যোগকেই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অনেক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বর্তমান ‘অ্যাপ্রোচ’ (পন্থা) গ্রহণ করেছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর ‘হিউম্যানিটারিয়ান ডিপ্লোমেসি’র (মানবিক কূটনীতি) একটি অংশ। এর দুটি দিক আছে—একটি হিউম্যানিটারিয়ান (মানবিক সহায়তা), আরেকটি ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যান্ড জাস্টিস’ (জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার)।”

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘প্রত্যাবাসন ও বিচার অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কারণ এর আগেও প্রত্যাবাসন হয়েছে সাতাত্তর-আটাত্তর সালে; নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে হয়েছে। এই একই রোহিঙ্গারা, তারা গেছে এবং আবার ফিরে এসেছে। সুতরাং তাদের এই প্রত্যাবর্তনটা যাতে টেকসই হয়, তারা যাতে আর ফিরে না আসে তার জন্য জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি (জবাবদিহি) ও ফিরে যাওয়া পরস্পরের পরিপূরক।’

আগে বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘প্রিম্যাচিউর’ (উপযুক্ত সময়ের আগেই) ছিল কি না—কালের কণ্ঠ’র এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, “এ ব্যাপারে আমি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। অন্য সময়, অন্য প্রেক্ষাপটে যেটি হয়েছে, নিশ্চয়ই উদ্যোগটি ‘র‌্যাশনাল’ (যৌক্তিক) ছিল।”

আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা ইস্যুতে সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে বাংলাদেশের জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নীতির প্রতিফলন হিসেবে আখ্যা দেন পররাষ্ট্রসচিব। তিনি জানান, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষ থেকে গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। যে ‘অ্যাডহক ওয়ার্কিং গ্রুপ’ এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে তার ‘কো-চেয়ার’ বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আইসিসি আমাদের কাছেও মতামত চেয়েছে। আমরা মতামত দিয়েছি। আমরা দেখব, আইসিসি কিভাবে এগিয়ে যায়।’

আইসিজেতে মামলার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে যাবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আমাদের যে নীতি তা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়র মিশেল। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন তখনই আমরা জাতিসংঘে নিয়ে গেছি। সুতরাং মিয়ানমার তখন থেকেই জানে আমরা দুইভাবেই চেষ্টা করছি। একটি আরেকটির পরিপূরক।’

ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরোধিতা করছে না জাতিসংঘ : ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর নিয়ে জাতিসংঘের ‘বিরোধিতার’ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, “আমার মনে হয়, ‘বিরোধিতা’ শব্দটি ঠিক না। জাতিসংঘ এই ইস্যুতে বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে। একটি টেকনিক্যাল টিম আছে। অচিরেই সেই টেকনিক্যাল টিমের ভাসানচর যাওয়ার কথা। ওখানে কিছু জিনিস তারা নিশ্চিত করতে চায় এবং করার পর এ প্রক্রিয়া শুরু হবে। সুতরাং জাতিসংঘ বিরোধিতা করছে এ বিষয়টি ঠিক না।”

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা