kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ইবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে দশটি বইয়ের অনুবাদ নকলের অভিযোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্ববিখ্যাত ১০টি বইয়ের অন্যের করা অনুবাদ নিজের নামে চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর রহমানের বিরুদ্ধে। অনূদিত বইগুলোর মধ্যে ৯টি ‘সৃজনী প্রকাশনী’ থেকে ও একটি ‘এ্যাবাকাস পাবলিকেশনস’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মনজুর রহমান দাবি করেছেন, বইগুলো তাঁর অনূদিত নয়। তাঁর নাম ভাঙিয়ে প্রকাশনীগুলো বইগুলো প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ‘সৃজনী প্রকাশনীকে চার-পাঁচ বছর আগে আমি কিছু ভূমিকা লিখে দিয়েছিলাম, যেগুলোর কয়েকটি সেই সময় তারা ভূমিকা হিসেবে প্রকাশ করে। পরে ভূমিকায় আমার নাম ব্যবহার না করে অনূদিত বা ভাষান্তরে আমার নাম ব্যবহার করেছে।’

জানা যায়, নভেম্বর মাসের শুরুতে কলকাতার বইমেলায় ঢাকার সৃজনী প্রকাশনী থেকে ড. মনজুর রহমান অনূদিত ‘দ্য গ্রেট মিথোলোজি’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, বইটি লেখক সুধারঞ্জন ঘোষ অনূদিত ‘গ্রিক পুরাণ কথা’ বইয়ের নকল, যা ঢাকার অরিত্র প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় লেখক অভীক সরকার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সমালোচনা করে একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর আলোচনায় আসে মনজুর রহমানের বই নকলের বিষয়টি। বিষয়টি নিয়ে গত ১৬ নভেম্বর মনজুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বইটি তাঁর অনূদিত নয়। এ বিষয়ে তিনি সৃজনী প্রকাশনীতে কোনো পাণ্ডুলিপিও জমা দেননি। তাঁর নাম ব্যববহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ঝিনাইদহ জেলা জজ আদলতে প্রকাশনীটির বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেছেন। এদিকে মামলাটির বিষয়ে কথা তোলেন লেখকরা। লিও টলস্টয়ের ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ বইটি মনীন্দ্র দত্ত ও নন্দিনী বণিকের অনুবাদে বিশ্বসাহিত্য ভবন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এটির অনুবাদও নকলের অভিযোগ উঠেছে মনজুর রহমানের বিরুদ্ধে, যা প্রকাশ করেছে এ্যাবাকাস পাবলিকেশনস। এ ছাড়া আগাথা ক্রিস্টির ‘নেমেসিস’ এবং ‘এ ক্যারিবিয়ান’ বই দুটি মাসুদ রানার অনুবাদের হুবহু নকল বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে অধ্যাপক মনজুরের বিরুদ্ধে। বই দুটি সৃজনী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত। একই প্রকাশনী থেকে আগাথা ক্রিস্টির চারটি উপন্যাস, শেকসপিয়ারের রচনাবলি, ডেল কার্নেগি রচনাবলি, ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’, শার্লক হোমস রচনাবলি ও জুলভার্ন রচনাসমগ্র মনজুর রহমানের অনুবাদে প্রকাশিত বলে জানা গেছে। এই বইগুলো অন্যের অনুবাদ থেকে আংশিক বা হুবহু নকল করার অভিযোগ উঠেছে।

উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘বিভাগ থেকে কোনো সুপারিশ বা কারো কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে উপাচার্য আসার পর আমরা বিষয়টি আলোচনা করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা