kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

শিবিরের সাবেক ভিপি দাপুটে আ. লীগ নেতা

খুলনার এই ব্যবসায়ীর নামে পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ ধরছে না

খুলনা অফিস   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিবিরের সাবেক ভিপি দাপুটে আ. লীগ নেতা

এস এম নুরুল হক। একসময় খুলনার দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজ ছাত্রসংসদের ছাত্রশিবির মনোনীত ভিপি ছিলেন। আর এখন পাক্কা আওয়ামী লীগ নেতা আর পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। টাকা আর ক্ষমতার বলে আলাদা পাঁচটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরোয়ানা নিয়ে একাধিক সভা-সমাবেশে অংশ নিলেও গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। নুরুল হক মেসার্স অনিক জুট ইন্টারন্যাশনালের মালিক ও নগরীর দৌলতপুরের পাবলা কবি ফারুক একাডেমি রোডের এলাকার মৃত ইমান আলী শেখের ছেলে।

আদালতের নথি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এস এম নুরুল চতুর ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে একাধিক প্রতারণা ও চেক ডিজঅনার মামলা রয়েছে। এ বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য হাকিমের আদালত তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। এ মামলার বাদী খুলনা ফিলিং স্টেশনের মালিক গোলাম কাদের। এ মামলায় নুরুল হক বেশ কিছু দিন কারাগারে ছিলেন।

শুধু তা-ই নয়, দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজের ১৯৮৮-৮৯ শিক্ষাবর্ষের শিবির মনোনীত ভিপি (সহসভাপতি) এস এম নুরুল হক এখন দৌলতপুর থানা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদও। প্রায় চার বছর আগে দুই কোটি টাকার চেক ডিজঅনারের চার মামলায় সাজা পেয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না। ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর চারটি মামলার আলাদা রায় দেন আদালত। প্রতিটি মামলায় আদালত তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও  ৫০ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন।  তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি থাকলেও গেল চার বছর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি। এমনকি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকলেও তাঁকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নুরুল হক সাধারণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে তিনি বিত্ত-বৈভব গড়ে তুলছেন।

থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘দৌলতপুর থানা বঙ্গবন্ধু পরিষদের বর্তমান সভাপতি এস এম নুরুল হক কলেজের শিবির সমর্থিত ভিপি ছিলেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগার। আমাদের কিছু বলার নেই। এ ধরনের ব্যক্তির দায় দল নেবে না।’

দৌলতপুর থানার ওসি কাজী মোস্তাক আহমেদ বলেন, নুরুল হককে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না, এ অভিযোগ ঠিক নয়। তিনি খুলনার বাইরে অবস্থান করায় গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য এস এম নুরুল হকের মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালের কণ্ঠ’র ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা