kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

হিমলুং পর্বতশৃঙ্গ বিজয়ী ইকরামের পতাকা হস্তান্তর

‘এই অনুভূতির তুলনা হয় না’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হিমলুং পর্বতশৃঙ্গ বিজয়ী ইকরামের পতাকা হস্তান্তর

হিমলুং শিখরে জাতীয় পতাকা হাতে ইকরামুল

নেপালের অন্যতম পর্বতচূড়া হিমলুং বিজয় শেষে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করেছেন পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান। জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর হিমলুং অভিযানের দলনেতা এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত যৌথভাবে আয়োজকদের কাছে পতাকা হস্তান্তর করেন।

পর্বতারোহী ইকরাম তীব্র ঠাণ্ডা ও প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাসের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার ফুট উচ্চতার পর্বত শিখরটি বিজয়ের বর্ণনা দিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, মাঝপথে উড়ন্ত তুষার খণ্ডে চোখে আঘাত পেয়ে মুহিত আর উঠতে না পেরে তাঁর হাতেই জাতীয় পতাকার ভার দিয়েছিলেন। ইকরাম বলেন, মুহিত যখন তাঁর হাতেই তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের পতাকা ও অভিযান শেষ করার দায়িত্ব, তখন তাঁর মনে হচ্ছিল, পুরো বাংলাদেশটাই যেন হাতে তুলে দিলেন মুহিত।

গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। ইকরামুল হাসান এই ক্লাবের সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নেপালের তিব্বত সীমান্তে অন্নপূর্ণা ও মানাসলু অঞ্চলের মাঝে অবস্থিত সাত হাজার ১২৬ মিটার (২৩ হাজার ৪০০ ফুট) উঁচু হিমলুং পর্বতশিখর। বাংলাদেশের দুই পর্বতারোহী এম এ মুহিত ও ইকরামুল হাসান গত ৫ অক্টোবর নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। পরে ৮ অক্টোবর নেপালের কোটো থেকে ট্রেকিং শুরু করেন। ১২ অক্টোবর তারা পৌঁছান হিমলুংয়ের ১৫ হাজার ৯১২ ফুট উচ্চতায় বেইস ক্যাম্পে। পরে ২৩ অক্টোবর ভোর ৪টায় দুই শেরপা গাইডকে সঙ্গে নিয়ে প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাসের মধ্যে তাঁরা চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা আরোহণের পর উড়ন্ত তুষার কণায় এম এ মুহিত চোখে আঘাত পান। এরপর তিনি এক শেরপাকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্প-৩-এ নেমে আসেন। এ সময় মুহিত জাতীয় পতাকা ইকরামুলের হাতে তুলে দেন। জাতীয় পতাকা নিয়ে অন্য শেরপাকে সঙ্গে নিয়ে ইকরামুল হাসান আরোহণ অব্যাহত রাখেন। পরে ২৩ অক্টোবর নেপাল সময় সকাল ১০টা ১০ মিনিটে হিমলুং শীর্ষে আরোহণ করেন তিনি।

অভিযাত্রী ইকরামুল হাসান অভিযানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘চূড়ায় ওঠার আগ মুহূর্তে খুব দুর্বল লাগছিল। চূড়ায় উঠে বিজয়ের আনন্দ উদ্‌যাপন করি। সেখানে প্রচণ্ড বাতাস ছিল। তাই ছয়-সাত মিনিটের বেশি অবস্থান করিনি। দেশের পতাকা চূড়ায় তুলে ধরার যে অনুভূতি সেটা বলে প্রকাশ করতে পারব না।’অভিযানের দলনেতা এম এ মুহিত হিমালয়ের হিমলুং শিখরে উন্নীত জাতীয় পতাকাটি প্রত্যর্পণ এবং অভিযানের স্লাইড প্রদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে ইকরামুল সবার সেরা একজন। আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম সে পারবে। আশা করি, সে আমাদের ছাড়িয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ ও লেখক জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এই অভিযানের কষ্টকর ও আনন্দকর দুটি দিকের সঙ্গেই পরিচয় হলো। আশা করি, তাদের এই ধারা অব্যাহত রাখবে। তাদের কল্যাণ কামনা করি, যাতে পরবর্তী পর্বত জয় করার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নেপালি দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ধন বাহাদুর, আরলা ফুডস বাংলাদেশ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং গালীব বিন মোহাম্মদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা