kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

ক্রিকেটের উন্নয়নে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রিকেটের উন্নয়নে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী

গতরাতে গ্র্যান্ড তাজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ক্রিকেট বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের বন্ধনকে আরো গভীর করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের গৃহীত বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে ভারতকে সব সময় পাশে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

‘বর্তমানে ভারতের মতো বাংলাদেশেও ক্রিকেটকে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য আমরা বিভিন্নমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। আমি আশা করছি, আমাদের এই অভিযাত্রায় ভারত অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমাদের পাশে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার রাতে ইডেন গার্ডেনসে গোলাপি বলে ভারত-বাংলাদেশের প্রথম দিবা-রাত্রির ক্রিকেট টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনের খেলা শেষে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

‘বিগত এক দশকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে’, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের উভয় দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধনকে আরো নিবিড় করেছে।’

ভারত-বাংলাদেশের এই সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত এবং নিবিড়তর হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং ভারত অভিন্ন ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, ইতিহাস ঐতিহ্যসহ বহুবিধ অভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা একসঙ্গে রক্ত ঝরিয়েছি।’

শেখ হাসিনা এ সময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ সরকার নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’কে বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক ‘মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহযোগে এই ভবন উদ্বোধনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের জনগণের ভাষা ও খাদ্যাভ্যাস এক। আবার আমরা একই কবির লেখা কবিতা পড়ে, গান গেয়ে বড় হয়েছি। আমাদের আবেগ, অনুভূতি, আনন্দ-বেদনার প্রকাশ একই।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের প্রভাব অপরিসীম।’

দেশ স্বাধীনের পর কলকাতায় প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে একেই জাতির পিতার কন্যা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল ভিত্তি বলে আখ্যায়িত করেন।

জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আমাদের হৃদয়ের। এই বন্ধুত্বের বন্ধন সব সময় দৃঢ় এবং চিরস্থায়ী থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পথই বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূলভিত্তি। সময়ের বিবর্তনে আমাদের এ সম্পর্ক বিশ্ববাসীর নিকট সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের এক আদর্শ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে ২০০০ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচের কথা। যে ম্যাচে প্রতিপক্ষ দল ভারতের অধিনায়ক ছিলেন বর্তমান বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নবীন সদস্য হলেও বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয় করেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের আইসিসি বিশ্বকাপ ম্যাচসহ অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজন এবং ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতাগুলো অত্যন্ত সফলভাবে নিয়মিত আয়োজনেরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী ভারত-বাংলাদেশ ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ দেখতে আমন্ত্রণ জানানোয় ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দিনব্যাপী কলকাতা সফর শেষে শুক্রবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন।

প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীবাহী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি রাত ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

কলকাতায় অবস্থানকালীন প্রধানমন্ত্রী ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনের খেলা উপভোগ করেন।

ম্যাচ উপভোগের ফাঁকে সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কলকাতায় অবস্থানকালীন হোটেল তাজ বেঙ্গলে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় এই ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। ২২ নভেম্বর থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত ইডেন গার্ডেনসে এই খেলা চলবে। বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা