kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

কমতে কমতে হঠাৎ বেড়ে গেল পেঁয়াজের দাম

দেশি ২০০ টাকা, আমদানি করা ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে
চাল, তেল, ডিম ও সবজির বাজারেও সুখবর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কমতে কমতে হঠাৎ বেড়ে গেল পেঁয়াজের দাম

পেঁয়াজ সংকট সামাল দিতে আমদানি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে পাইকারির পাশাপাশি খুচরা বাজারে দাম কমতে শুরু করে। কিন্তু দুই দিনের ব্যবধানে গতকাল শুক্রবার হঠাৎ করে আবার বেড়ে গেছে। চাল, তেল, ডিম ও সবজির বাজারেও সুখবর নেই।

গত বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশি পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। আগে বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকায়। গতকাল সেই দেশি পেঁয়াজের দাম আবার বেড়ে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোয় বিক্রি হয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। রংপুরের পীরগাছায় বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৬০-১৮০ টাকা। কিন্তু গতকাল দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন।

রাজধানীর খুচরা বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৭০ টাকা। তবে ময়মনসিংহ থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০-১৮০ টাকায়। পাইকারি দর ছিল প্রতি কেজি ১৬০ টাকা।

ক্রেতারা বলছেন, এত দিন পেঁয়াজের দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল, কমার ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা সফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে এটা ঠিক, তবে চাহিদার তুলনায় তা এখনো কম। তাই পেঁয়াজের দাম সেভাবে কমছে না।

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে পেঁয়াজের দাম বাড়াতে থাকেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে গত সপ্তাহে তা ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ওঠে ২২০ টাকা পর্যন্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কয়েকটি দেশ থেকে কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বুধবার থেকে ওই পেঁয়াজ দেশে আসতে শুরু করেছে। গতকাল কাওরান বাজারের পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১৫০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৪০ টাকা, মিসরের পেঁয়াজ ১১০ ও তুরস্কের পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। একই দিন রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, মিসরের পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ও তুরস্কের পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। নতুন গাছ পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম হালিতে বেড়েছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা।

গতকাল রাজধানীর বাসাবো, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে।

খোলা সয়াবিন তেল কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। আর পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে লিটারে দুই থেকে পাঁচ টাকা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের এক লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ১০২ থেকে ১১০ টাকায়। প্রতি হালি ফার্মের মুরগরি ডিম বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায়। তবে কেজিতে ১০ টাকা কমে ফার্মের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

দুই সপ্তাহ ধরে চালের বাজারও অস্থির। চালের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী লুৎফর কাজী কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় নতুন করে কেজিতে এক-দুই টাকা বেড়েছে চালের দাম। তিনি আরো বলেন, সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই চালের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। গতকাল বাজারে ভালো মানের মিনিকেট ৫২-৫৫, নাজিরশাইল ৫৮-৬০, লতা ৪৬-৪৮ ও বিভিন্ন জাতের মোটা চাল ৩৮-৪২ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা