kalerkantho

শনিবার । ১৮ জানুয়ারি ২০২০। ৪ মাঘ ১৪২৬। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বন্দর-ফেরিতে আজীবন টোল ফ্রি সুবিধা মুক্তিযোদ্ধাদের

মুজিববর্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ব্যাপক কর্মসূচি

নিখিল ভদ্র   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্দর-ফেরিতে আজীবন টোল ফ্রি সুবিধা মুক্তিযোদ্ধাদের

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতো ব্যাপক কর্মসূচি নিচ্ছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মুজিববর্ষে জাতির সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য থাকছে বিশেষ উপহার। দেশের সব নদীবন্দর ও ফেরিতে তাঁরা আজীবন টোল ফ্রি সুবিধা পাবেন। আগামী ১৭ মার্চ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মুজিববর্ষ উদ্‌যাপনে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়েছে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় কমিটির সভায় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াতে নদীবন্দর ও ফেরিতে টোল ফ্রি সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্টিমারে ফ্রি যাতায়াতের সুবিধাও পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধারা ঘাটে সঠিক পরিচয়পত্র দেখালে এ সুবিধা নিশ্চিত করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনকে (বিআইডাব্লিউটিসি) এসংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিআইডাব্লিউটিএ নদীবন্দরগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রবেশ মাসুল ফ্রি করেছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের আজীবনের জন্য এটি ফ্রি করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বিআইডাব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। কারণ, দেশের নদীবন্দর ও ফেরিঘাটের টোল আদায় করে বিআইডাব্লিউটিএ। আর ফেরির টোল আদায় করে বিআইডাব্লিউটিসি। তাই এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্যসন্তান। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে নৌপথে তাঁদের যাতায়াত ফ্রি করতে চাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশ ও নৌপথের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছিল নিবিড় সম্পৃক্ততা। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা তা ফুটিয়ে তুলতে চাই। সেভাবেই মুজিববর্ষের বিভিন্ন কর্মসূচি সাজানো হচ্ছে।’

এদিকে মুজিববর্ষের কর্মসূচি নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও। কমিটির সদস্য এস এম শাহজাদা কালের কণ্ঠকে জানান, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। তাঁরা আগামী ১৭ মার্চ থেকে কোনো অর্থ ব্যয় না করে নৌপথে যাতায়াত করতে পারবেন। কোন প্রক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে দ্রুতই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।’

কমিটি সূত্র জানায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী মার্চে ‘বঙ্গবন্ধু ও নদীমাতৃক বাংলাদেশ’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু ও সুনীল অর্থনীতি’ শীর্ষক পৃথক দুটি সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১৭ মার্চ উপলক্ষে তুরাগ নদের তীরে লেজার শো প্রদর্শন করা হবে। আর নদীকেন্দ্রিক বঙ্গবন্ধুর কার্যক্রম ও ভ্রমণ স্মৃতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সংকলন ও তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হবে। বঙ্গবন্ধু বিদেশি অতিথিদের নিয়ে যেসব নৌ ভ্রমণ করেছেন—সেসব নিয়েও ছবির অ্যালবাম করা হবে। এসব সংকলন ও তথ্যচিত্র প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোতে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া আগামী বছর এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ঘাটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিফলক স্থাপন করা হবে। জুলাইয়ে বিভিন্ন জেলায় নৌকাবাইচের আয়োজন করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে চারটি নতুন মেরিন একাডেমিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। বাংলাদেশের শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজগুলোতে প্রদর্শনী বা তথ্যচিত্র প্রদর্শনী করা হবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। ২০২১ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। ২০২১ সালের ১৭ মার্চ বরেণ্য ব্যক্তি ও জাতীয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে নৌ ভ্রমণের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির শেষ হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা