kalerkantho

বুধবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৫ সফর ১৪৪২

ইডেনে বাংলাদেশ ভারতের টেস্ট

শেখ হাসিনা-মমতা উদ্বোধনী ঘণ্টা বাজালেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেখ হাসিনা-মমতা উদ্বোধনী ঘণ্টা বাজালেন

গোলাপি বলে ঐতিহাসিক টেস্টে তারার মেলাই বসেছিল ইডেনে। বিসিসিআই প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলির আমন্ত্রণে সে উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইডেনের ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টা বাজিয়ে ম্যাচের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। মাঠে নেমে পরিচিত হন দুই দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও। ছবি : বাসস

কলকাতার ইডেন গার্ডেন সাক্ষী হলো আরো একটি ক্রিকেট ইতিহাসের। তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে দড়ি টেনে ঐতিহাসিক ঘণ্টা বাজালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঢং ঢং ঢং—ঘণ্টাধ্বনির মধ্য দিয়েই উদ্বোধন হলো গোলাপি বলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ।

স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ভিভিআইপি গ্যালারিতে রক্ষিত ঘণ্টা বাজিয়ে এই টেস্ট ম্যাচের উদ্বোধন করে খেলা শুরুর আগে ইডেনের মাঠে নামেন শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে মাঠে দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তাঁরা দুই দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হাত উঁচু করে দর্শকদের তুমুল উল্লাস আর শুভেচ্ছার জবাব দিতে দেখা যায়।

মাঠে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন এই এলাহি আয়োজনের অন্যতম হোতা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি পশ্চিমবঙ্গের ছেলে সৌরভ গাঙ্গুলী; তিনি ভারত দলের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলেরও সভাপতি। ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই টেস্টের সূচনালগ্নে উপস্থিত থাকতে সৌরভ গাঙ্গুলীই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেছিলেন। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে। তবে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে মোদি নিজে কলকাতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।

বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চড়ে গতকাল সকালে ঢাকা থেকে কলকাতায় পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। কলকাতায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কলকাতার মেয়র এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর উন্নয়ন ও পৌরসভা বিষয়ক মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতার পর প্রধানমন্ত্রীকে একটি মোটর শোভাযাত্রাসহকারে তাজ বেঙ্গল হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সামান্য বিশ্রাম নিয়েই তিনি চলে যান ইডেনে। ঐতিহাসিক এই ভেন্যুতে পৌঁছার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌরভ গাঙ্গুলী তাঁকে স্বাগত জানান।    

এই টেস্ট ঘিরে কলকাতা এখন রীতিমতো গোলাপি জ্বরে আক্রান্ত। পুরো ইডেন গার্ডেনকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে নতুন সাজে। মূল প্রবেশদ্বার সাজানো হয়েছে ফুল দিয়ে। সেখানেও রয়েছে গোলাপি রঙের প্রাধান্য। কলকাতার বিভিন্ন স্থাপনায় রাতে হয়েছে গোলাপি আলোকসজ্জার ব্যবস্থা। এমনকি গঙ্গায় নৌকার সাজেও গোলাপি। ফেয়ার প্লে প্ল্যাকার্ডবাহী শিশু থেকে শুরু করে স্কোর বোর্ড, এমনকি ম্যাচের টস কয়েনটিও ছিল গোলাপি বর্ণের।

বাংলাদেশের অধিনায়ক মমিনুল হক টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। গ্যালারিতে বসে প্রথম সেশনের খেলা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ফেরেন হোটেলে। মধ্যাহ্নভোজ শেষে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রথম দিনের খেলার পর ইডেন গার্ডেনে বেঙ্গল ক্রিকেট আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, তখন আবার স্টেডিয়ামে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সেই অনুষ্ঠান শেষে রাতেই নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা