kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মালয়েশিয়ায় পাচার

বাঁশখালীর হাজারো মানুষের বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কা

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সহস্রাধিক মানুষ মালয়েশিয়ায় গিয়ে আটকা পড়েছে। মোটা বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে এসব লোকজনকে সাগরপথে পাচার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকচক্র। তবে পাচার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকের খোঁজ না মেলায় জঙ্গলে কিংবা সাগরে তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে স্বজনরা। অনেকের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ থাকলেও তাদের দেশে ফেরানো যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে আটকে পড়াদের দেশে ফেরাতে বর্তমান ইউএনওর মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০০ আবেদন করা হয়েছে। এর আগে একই ধরনের প্রায় এক হাজার ৫০০ আবেদন করা হয়। এর মধ্যে এক হাজার ব্যক্তি দেশে ফিরেছে।

কয়েকটি মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩-১৪ জনের সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারীচক্র পুরো বাঁশখালী থেকে নিয়মিত মানবপাচার করে আসছে। এ চক্রের সদস্যরা হলেন শেখেরখীলের আহমদ ছফার ছেলে গোলাম নুর কবির চৌধুরী, নুরের চাচা মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল আজিজ, ছনুয়ার খুদুকখালী গ্রামের ছালেহ আহমদের ছেলে জামাল উদ্দিন, মো. শফি, গফুর ডাকাত, শেখেরখীলের মৃত বুজরুচ মিয়ার ছেলে মনির মাঝি প্রমুখ। তাঁদের হাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছনুয়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, চাম্বল, শীলকূপ ও বাঁশখালী পৌর এলাকার হতদরিদ্র বাসিন্দারা। অনেকে সহায়সম্বল বিক্রি করে কিংবা ধার করে প্রতারকদের টাকা দিয়ে বিদেশ যেতে পারেনি। আবার অনেকে বিদেশে গিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ছনুয়ার খুদুকখালী গ্রামের সাবিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী নেজাম উদ্দিন ছয় বছর আগে মালয়েশিয়া যান। ওখানে ভালোভাবে টাকা কামিয়ে টাকা-পয়সা দেশে পাঠাতেন। প্রবাসী আব্দুল আজিজ ও তাঁর ভাতিজা গোলাম নুর কবির চৌধুরীর মাধ্যমে আমার দুই ভাই নাছির ও ইসমাইলের জন্য সাত লাখ ৬০ হাজার টাকা দিই। ৩০০ টাকা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে চুক্তিও হয়। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিই। এই খবর পেয়ে আমার স্বামীকে মালয়েশিয়ায় হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি।’

মন্তব্য