kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আইসিসিবিতে বাপা ফুডপ্রো এক্সপো

প্রযুক্তিসমৃদ্ধ কৃষিপণ্যের সম্ভার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রযুক্তিসমৃদ্ধ কৃষিপণ্যের সম্ভার

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গতকাল শুরু হয়েছে বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৯। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রসার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে পরিচয় করিয়ে দিতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে সপ্তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৯। প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের সর্ববৃহৎ এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে দেশি-বিদেশি কয়েকশ প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি ফুড প্রসেসিং সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত।

কৃষিমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক গতকাল বৃহস্পতিবার এই ফুডপ্রো এক্সপো উদ্বোধন করেন। আইসিসিবির এক নম্বর হলে অ্যাগ্রো ইনপুট, কেমিক্যালস, পেস্টিসাইডস, সিডস, ফার্ম ইমপ্লিমেন্টস ও রাইস মেশিনারি; দুই ও তিন নম্বর হলে মেশিনারি উপকরণ ও টেকনোলজি এবং চার নম্বর হলে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। 

বাংলাদেশ, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তাইওয়ান, পাকিস্তান, তুরস্ক, সুইজারল্যান্ডসহ প্রায় ১৫টি দেশের কয়েকশ প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নবম অ্যাগ্রো বাংলাদেশ এক্সপো-২০১৯ ও ষষ্ঠ রাইস অ্যান্ড গ্রেইনটেক এক্সপো-২০১৯।

মেলায় অংশ নেওয়া ইমটেক্স প্যাকেজিংয়ের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের মানুষের কাছে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণের আধুনিক সব যন্ত্রপাতি ও টেকনোলজি তুলে ধরা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। আমাদের প্রতিষ্ঠান ইমটেক্স প্যাকেজিং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণের সব মেশিন এই মেলায় তুলে ধরেছে। দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের পক্ষ থেকে বেশ সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।’

গতকাল বিকেলে মেলা ঘুরে দেখছিলেন স্টার অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজের হেড অব বিজনেস (ইন্টারন্যাশনাল) আবদুর রউফ। তিনি বলেন, ‘অ্যাগ্রো বেইসড কান্ট্রি হওয়া সত্ত্বেও শুধু প্রসেসিংয়ের অভাবে আমরা সেভাবে ডেভেলপ করতে পারছি না। মেলায় এসেছি নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে। দেশে যত ধরনের প্রক্রিয়াজাত কৃষিসংশ্লিষ্ট পণ্য পাওয়া যায় তার সবই এখানে দেখতে পারছি।’

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশে একটা সময় ব্যাপক খাদ্যঘাটতি ছিল। প্রয়োজন মেটাতে খাদ্য আমদানি করতে হতো। কিন্তু দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে আমাদের সমস্যা হলো উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারা। উদ্বৃত্ত ধান নিয়ে আজও বিপাকে পড়ছে কৃষক। তাই ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে চলতি আমন মৌসুমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকার ছয় লাখ টন ধান কিনবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য খাত এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার বিশ্বদীপ দে বলেন, ‘কৃষি খাতে কয়েক বছরে বাংলাদেশ খুব ভালো করেছে। রপ্তানি আয় বেড়েছে। ভারত কৃষি খাতের বড় একটি বাজার। বাংলাদেশ থেকে বিএসটিআই অনুমোদিত ২১টি অ্যাগ্রো পণ্য ভারতে যায়।’ মেলায় ভারত থেকে ৬৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি ভারতের অ্যাগ্রো খাতে বিনিয়োগে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে। মেলায় প্রদর্শনী ছাড়াও কারিগরি সেশনে থাকছে এই খাতে যুক্ত দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি। থাকছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বিজনেস ম্যাচিং সেশনের ব্যবস্থাও।

 

মন্তব্য