kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন

মানবদেহে অঙ্গ সংযোজন আইনের সংশোধন দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গত বুধবার রাজধানীর ধানমণ্ডি গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের ২০১৮ সালের সংশোধিত মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনটির পরিধি অত্যন্ত সীমিত ও সংকীর্ণ। জীবিত অনাত্মীয় দাতার কোনো ব্যবস্থা আইনে নেই। এ আইনে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এ হাফিজ, মাইক্রোবায়োলজিস্ট ডা. মাহবুবুর রহমান এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. মহিবুল্লাহ খন্দকার।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য যে আইন হবে তা এত নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না। এখন যে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনটি করা হয়েছে তা জটিল ও অতিমাত্রায় আমলাতান্ত্রিক আইন, যা ঢাকাকেন্দ্রিক। এ ছাড়া এ আইনের আওতায় কোনো মানুষের কিডনি বিকল হলে তার কোনো স্বজন না থাকলে কিংবা তার কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাকে কিডনি দিতে চাইলেও সেটা সম্ভব নয়। আইন এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা হতে পারে না। এ ছাড়া ঢাকাকেন্দ্রিক আইন হওয়ার ফলে রোগীকে চিকিৎসা নিতে হলে ঢাকায় আসতে হবে। এটা মৌলিক অধিকারের খেলাপ এবং মানুষকে মিথ্যা বলতে বাধ্য করছে। যেকোনো সুস্থ মানুষ অঙ্গ দান করতে পারবে এটাই অধিকার। সুতরাং এ আইনের সুষ্ঠু সংশোধন করা প্রয়োজন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৪০ থেকে ৪৫ হাজার নতুন মানুষের কিডনি বিকল হয়। বিকল কিডনির উত্তম চিকিৎসা হচ্ছে কিডনি সংযোজন। বিকল্প রয়েছে ডায়ালিসিস, তবে এটি খুবই ব্যয়বহুল। গড়ে প্রতি মাসে একজন রোগীর ডায়ালিসিস করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়।

তিনি বলেন, ডায়ালিসিসের তুলনায় বিকল কিডনি রোগীর শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যয় অনেক কম। দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে সুস্থ ব্যক্তির দেহ থেকে একটি কিডনি সংগ্রহ করে একজন কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করলে রোগী ১৫ থেকে ২০ বছর সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন। সমগ্রুপের কিডনি না হলে অতিরিক্ত কিছু ওষুধ নিয়মিত খেতে হয়। এতে বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অঙ্গ নিয়ে ছয় ঘণ্টার মধ্যে জীবিত বিকল রোগীর শরীরে স্থাপন করা যায়। তিনি আরো বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর ১০ লাখ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ জীবিত ব্যক্তির এবং ৪০ শতাংশ মৃত ব্যক্তির।

মন্তব্য