kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ

‘সন্তানরা আরেকবার রাস্তায় নামলে পিঠে চামড়া থাকবে না’

♦ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনের বাস্তবায়ন করতেই হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
♦ ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি সভ্য জাতির প্রতীক : আইজিপি
♦ একটি মহল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে : এনায়েত উল্যাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘কেউ আইন মানতে চায় না। যদি সবাই আইন মেনে চলে তবে কোনো সমস্যা থাকে না। শুধু ট্রাফিক আইন নয়, সব পর্যায়ে সবাই আইন মেনে চললে অপরাধ অনেক কমবে। সব পর্যায়ে আইন মেনে চলার সংস্কৃতি চালু হোক, এটাই আমার চাওয়া।’

সড়কে চলাচলরত গাড়ির চালক, হেলপার, পথচারীসহ সাধারণ মানুষের দায়িত্ব, করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে সচেতন করতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শান্তিনগরের রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল ২১ নভেম্বর থেকে শুরু ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এতে কোথাও অসংগতি থাকলে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। সড়ক নিরাপদ রাখতে কী কী করা যায়, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করছেন।’ পরিবহন চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে একটা জটিলতা ছিল। তবে গত বুধবার রাতে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে লাইসেন্সসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য চালকদের একটা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তাঁরা তাঁদের লাইসেন্স ঠিক করে নেবেন।’

অনুষ্ঠানে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি সভ্য জাতির প্রতীক—এ স্লোগান নিয়ে আমরা সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যে ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ শুরু করেছি।’

সড়কে আইন প্রয়োগ করতে গেলে অনেকেই নিজেকে ক্ষমতাবান ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির হুমকি দেয়—এমন প্রসঙ্গের উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘সড়কে আইন প্রয়োগ করে কোনো কর্মকর্তা বদলি হবেন না। আমি এটা আশ্বস্ত করছি। তবে সবার ব্যবহার বিনয়ী হতে হবে।’

‘সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এটাই আমাদের শেষ সুযোগ’ উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কে বিশৃঙ্খলা হলে আবারও যদি আমাদের সন্তানরা রাস্তায় নামে তাহলে আমাদের কারোর পিঠের চামড়া থাকবে না। সেটা আমি পুলিশ কমিশনারই হই, আর আপনি পরিবহন মালিক সমিতির বড় নেতাই হোন। নতুন এ আইনের পর আমরা মালিক-শ্রমিক-পুলিশ যদি সড়কে শৃঙ্খলা আনতে না পারি, তাহলে আমাদের সন্তানরা সম্মিলিতভাবে রাস্তা থেকে আমাদের তুলে দেবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘একটি মহল নিরীহ পরিবহন শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পেঁয়াজ-লবণের পর গুজব পরিবহন সেক্টরে ভর করেছে। দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে তারা। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীও বলেছেন, নতুন আইনে কোনো সংশোধনী থাকলে তা দেখা হবে। আগামী ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গাড়ির চালকদের যাঁর যাঁর যে বৈধ লাইসেন্স আছে, তা দিয়ে গাড়ি চালাতে পারবেন। তবে এই সময়ের মধ্যে নিজেদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আপডেট করে নিতে হবে। এটাই শেষ সুযোগ, এরপর কোনো আপত্তি চলবে না।’

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল আরো বলেন, ‘পুলিশের উদ্দেশ্য সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, জরিমানা আদায় নয়। আমরা এখন ঢাকা মহানগরীতে প্রতি মাসে ছয়-সাত কোটি টাকা জরিমানা করি। সরকারের কাছে এ টাকা একেবারেই নস্যি, সরকারের এই টাকার প্রয়োজন নেই। সড়কে যদি শৃঙ্খলা থাকে, তাহলে মামলা করার কোনো প্রয়োজন নেই।’

মন্তব্য