kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঠাণ্ডাজনিত রোগ ছড়াচ্ছে ‘রাইনো ভাইরাস’

শীতে জ্বর সর্দিকাশি গলা ব্যথা মানেই ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়

তৌফিক মারুফ   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঠাণ্ডাজনিত রোগ ছড়াচ্ছে ‘রাইনো ভাইরাস’

শীতে জ্বর, সর্দিকাশি, গলা ব্যথা হলেই ইনফ্লুয়েঞ্জা নয় বলে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ববিদরা। তাঁরা বলছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ নিয়ে এলেও বাস্তবে এর বেশির ভাগই হচ্ছে ‘কমন কোল্ড ডিজিজ’, এক কথায় সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত সর্দিজ্বর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২.৫ শতাংশই ‘রাইনো ভাইরাসের’ কারণে হয়। ১০-৩০ শতাংশের জন্য দায়ী করোনা ভাইরাস, যা শুধু ঠাণ্ডার সময় ছড়ায়।

রোগতত্ত্ববিদরা জানান, ‘রাইনো ভাইরাসের’ পরিচিতি বাংলাদেশে নতুন বলে তাঁরা জানান। তাঁরা আরো বলছেন, শীতে সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা হয় না। কিন্তু সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত রোগকেও ইনফ্লুয়েঞ্জা বা অন্য ইনফেকশন মনে করে দেশে কথায় কথায় চলছে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োগ। কখনো চিকিৎসকরা দিচ্ছেন, আবার কখনো ভোক্তারা নিজেরাই কোনো রকম ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক নিচ্ছেন। কিন্তু সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত রোগে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজে আসে না। বরং ক্ষতি করে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, “বিশ্বব্যাপী ‘রাইনো ভাইরাসের’ মতো আরো অনেক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এ ভাইরাসের কারণে শীতের সময় সর্দিজ্বর প্রায় ঘরে ঘরেই দেখা দেয়। সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত সর্দিজ্বর এমনিতেই সেরে যায়। তবে মানুষকে কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলে দেয়। তাই নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।”

ওই রোগতত্ত্ববিদ বলেন, ‘আমরা কমন কোল্ড ডিজিজ সম্পর্কে ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতন করার কাজ শুরু করেছি, যাতে তাঁরা সর্দিকাশি-জ্বর দেখেই অ্যান্টিবায়োটিক না দেন। আগে নিজেরা উপসর্গ বুঝবেন, প্রয়োজনে পরীক্ষা করাবেন, তারপরই শুধু ওষুধ দেবেন।’

আরেক রোগতত্ত্ববিদ আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা দেশে হাসপাতালে ভর্তীকৃত রোগীদের ওপর সার্ভে (জরিপ) করে দেখেছি শীতের সময় বুকের ওপরের অংশে বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বলে যারা ভর্তি হয়েছে তাদের বেশির ভাগেরই ইনফ্লুয়েঞ্জার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। অর্থাৎ তারা শুধু সাধারণ সর্দিজ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হয়েছে। যা অন্য কোনো জটিলতা না থাকলে এমনি এমনিই সেরে যায়।’

ওই রোগতত্ত্ববিদ আরো বলেন, বিশ্বে এখন পর্যন্ত ২০০ ভাইরাস আবিষ্কার হয়েছে, যেগুলোর কারণে সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত রোগ হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২.৫ শতাংশ হয় ‘রাইনো ভাইরাসের’ কারণে। এতে সাধারণ সর্দিজ্বরের সঙ্গে মাথা ব্যথা, টনসিল ফোলা, গলা ব্যথা, সাইনোসাইটিস, দুর্বলতাসহ আরো কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আবার জ্বর না থাকলেও জ্বর জ্বর অনুভূতি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কাজে যেতে পারে না। আবার ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

ড. আলমগীর বলছিলেন, প্রধানত হাঁচি-কাশি থেকে সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসগুলো বেশি ছড়ায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাঁচি-কাশির সময় অবশ্যই মুখে রুমাল ব্যবহার করা এবং সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা জরুরি। এ ছাড়া এয়ার ফ্রেশনার, বডি স্প্রে, মশা মারার স্প্রে এ ধরনের স্প্রের উপাদানের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।

ওই বিশেষজ্ঞরা জানান, বছরে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে গড়ে ছয়বার ও শিশুদের ক্ষেত্রে আটবার সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত রোগ হতে পারে।

মন্তব্য