kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইসিজেতে মামলায় মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন সু চি

রোহিঙ্গাবিরোধী অবস্থান আরো স্পষ্ট হওয়ার পালা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞসহ পুরো জেনোসাইড প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের সময় নীরব ভূমিকা পালন করে এবার সেই দায় থেকে মিয়ানমারকে বাঁচাতে সরব হচ্ছেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। মিয়ানমার সরকার গতকাল বুধবার ঘোষণা দিয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগে জাতিসংঘের স্থায়ী আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলা তারা আইনগতভাবেই মোকাবেলা করবে। আর এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা সু চি নিজেই মিয়ানমারের স্বার্থ রক্ষায় নেতৃত্ব দেবেন।

মিয়ানমার বলেছে, তারা এরই মধ্যে মামলা লড়তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য আইনজীবীদের নিয়োগ করেছে। জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে মিয়ানমারসহ সবাই আইসিজের বিচারিক এখতিয়ারাধীন।

বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জোট ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাম্বিয়া গত ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জেনোসাইড প্রতিরোধবিষয়ক কনভেনশন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করে। আগামী ১০ থেকে ১৩ ডিসেম্বর হেগে আইসিজেতে ওই মামলার প্রথম পর্বের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলায় গাম্বিয়া মিয়ানমারে অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের জেনোসাইড থেকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রথম পর্বের শুনানি হবে সেই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়ে। আইসিজে রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে। অন্যদিকে রোহিঙ্গা জেনোসাইড, হত্যাযজ্ঞ, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধে ব্যক্তিবিশেষের বিচারের সুযোগ আছে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি)। মিয়ানমার আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার নাকচ করেছে।

এদিকে অং সান সু চি নিজেই আইসিজেতে মামলায় মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁর রোহিঙ্গাবিরোধী অবস্থান আরো স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন সময় তিনি রোহিঙ্গাদের বিদেশি বা বাংলাদেশি হিসেবে অভিহিত করে কার্যত তাদের মিয়ানমারের সমাজের বাইরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর এ মনোভাবকেও জেনোসাইডের আলামত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তা ছাড়া তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর থাকা অবস্থায় রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, যা জেনোসাইডের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা