kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

এনআরসি ইস্যুতে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আপিল নিষ্পত্তি নাগরিকত্ব যাচাই সাপেক্ষে বিতাড়ন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে’ আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার আগে আসামে নাগরিকপঞ্জিতে (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন্স—এনআরসি) বাদ পড়া ব্যক্তিদের ‘ডিপোর্ট’ (বিতাড়ন) করার প্রশ্নই আসে না বলে জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায়। তিনি জানান, সব প্রক্রিয়া শেষে কেউ অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হলে তার নাগরিকত্ব যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনে আসাম রাজ্য সরকারও তাকে ‘ডিপোর্ট’ করতে পারবে। ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে গতকাল বুধবার তিনি এ কথা জানান।

ভারতের প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন ব্যুরো জানায়, আসামে অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতেই এনআরসি হালনাগাদ করা হয়েছে বলে নিত্যানন্দ রায় রাজ্যসভাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত বছরের ৩০ জুলাই আসামে এনআরসির প্রথম খসড়া তালিকা ও এ বছরের ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এনআরসির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট যে কেউ ১২০ দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার পরই শুধু বিতাড়নের বিষয় আসবে। তিনি বলেন, ‘১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্টের আওতায় কোনো অবৈধ অভিবাসীকে বিতাড়নে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর অর্পিত ক্ষমতাগুলো সংবিধানের ১৫৮(১) অনুযায়ী আসাম সরকারের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। সুতরাং প্রয়োজনে আসাম রাজ্য সরকার একজন অবৈধ অভিবাসীকে তার নাগরিকত্ব যাচাই করে বিতাড়ন করতে পারে।’

এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ গতকাল রাজ্যসভায় বলেছেন, ভারতজুড়েই এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এতে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না। তিনি বলেন, সরকার মনে করে, ধর্মীয় নৃশংসতার কারণে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ত্যাগ করে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, শিখ ও পারসি শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গত আগস্ট প্রকাশিত চূড়ান্ত এনআরসিতে তিন কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার নাম উঠলেও বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫৭ জন। ভারতের রাজনৈতিক মহল থেকে বিভিন্ন সময় কথিত অবৈধ অভিবাসীদের ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিসহ শীর্ষ নেতৃত্ব বরাবরই এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এনআরসিকে বাংলাদেশও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে অভিহিত করলেও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। বাংলাদেশের অবস্থান হলো বাংলাদেশিরা থাকার জন্য বা অবৈধ অভিবাসী হওয়ার জন্য ভারতে যায় না। তা ছাড়া ভারতে কেউ অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হলেই যে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশি হয়ে যাবেন এমন ভাবনাও অবান্তর। রীতি অনুযায়ী, কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশে পাঠাতে হলে বাংলাদেশি হিসেবে তার নাগরিকত্বও প্রমাণ করতে হবে।

ভারতের ইংরেজি দৈনিক টেলিগ্রাফে গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর মতবিনিময়ের সময়ও কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ এসেছে। তিনি ভারতে ‘অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী’ তত্ত্বকে রাজনীতি হিসেবেই উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেছেন, রাজনীতিবিদরা নিজেদের স্বার্থে ওই তত্ত্ব ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ভারতে যাওয়ার চেয়ে ভূমধ্যসাগরে সাঁতার কেটে ইতালি যাওয়াকেই শ্রেয় মনে করে। আমি এখানে (নয়াদিল্লিতে) বাংলাদেশের তিনজন লোক পেয়েছি। কিন্তু তাদের কেউই ছয় মাসের বেশি থাকেনি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা