kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

প্রাদুর্ভাব কমলেও বন্ধ হয়নি

► হাসপাতালে ভর্তিসংখ্যা এক লাখ ছুঁই ছুঁই, বাড়ি ফিরেছে ৯৮,৩১৯ জন
► মৃত ২৫১ জনের মধ্যে ১২১ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে বলে নিশ্চিত

তৌফিক মারুফ   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমে গেলেও একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি এখনো। বরং প্রতিদিনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সরকারি হিসাবে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৯ হাজার ১৪০ জন। এর মধ্যে ৯৯.১ শতাংশ বা ৯৮ হাজার ৩১৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে মৃত্যুও ঘটছে।

এদিকে যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৪ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়নি বলে সরকারি পর্যালোচনা কমিটি দাবি করেছে।

যদিও হাসপাতালে ভর্তির সময় তাদের ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ১১৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ জন। যদিও এ পর্যন্ত মোট ভর্তিকৃত রোগীর চেয়ে বাস্তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরাও; যারা হাসপাতালে না এসে নিজ নিজ বাসাবাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুসারে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ২৫১ জনের সম্ভাব্য ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সংশ্লিষ্ট কমিটির হাতে এসেছে। এর মধ্যে বিকেল পর্যন্ত পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে ১৯৫ জনের। তাদের মধ্যে ১২১ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ ৭৪ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়নি। তাদের মৃত্যুর কারণ কী সেটাও এখন পর্যন্ত বের করতে পারেনি পর্যালোচনা কমিটি।

জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক ও ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনাসংক্রান্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মৃতদের যতগুলো তথ্য পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে তাদের মধ্যে যারা ডেঙ্গুতে মারা যায়নি বলে শনাক্ত হয়েছে তাদের মৃত্যুর কারণ খুঁজতে আরো অনেক সময় লেগে যাবে।’

ভর্তির সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে ডেঙ্গু পাওয়া যাচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্ষেত্রবিশেষে ভর্তির সময় শনাক্তকরণে কোনো সমস্যা ছিল বা মারা যাওয়ার সময় ডেঙ্গুর প্রভাবের চেয়ে অন্য জটিলতাই বেশি থাকতে পারে। তবে সেটা আরো পরীক্ষা না করে সঠিকভাবে বলা যাবে না।’

ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মুয়াজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে মৃত্যুর তথ্য আইইডিসিআরে পাঠানোর পর তারা পর্যালোচনার সময় নমুনা চায়। যেসব নমুনার কোনো কোনোটি সঠিকভাবে দেওয়া যায় না টেকনিক্যাল কারণে। অনেক ক্ষেত্রে একজন রোগী ভর্তি হওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা করলে পরীক্ষার রিপোর্ট সম্পন্ন হওয়ার পর ল্যাবে সেই রক্তের নমুনা বেশি দিন রাখা হয় না। ফলে ভর্তি বা পরীক্ষার পাঁচ-সাত দিন পরে পুরনো নমুনা চাইলে সেটা দেওয়া মুশকিল হয়ে যায়। আর নমুনা না পেলে আইইডিসিআরেও সঠিকভাবে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। যে কারণে মৃত কারো কারো মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্ত নাও হতে পারে।’

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা গড়ে ১০০ জনের কাছাকাছি ঘুরছে। সে হিসাবে ওই সংখ্যা পূর্ণাঙ্গ এক লাখে পৌঁছতে হয়তো আরো চার-পাঁচ দিন সময় লেগে যেতে পারে। তবে আমরা চাই আর একজন মানুষও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হোক কিংবা যেন কারো মৃত্যু না হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা