kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজধানীতে গণপরিবহন সংকটে দুর্ভোগ চরমে

‘ধর্মঘট নয়, বৈধ কাগজের অভাবই বাসসংকটের প্রধান কারণ’

জহিরুল ইসলাম   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীতে গণপরিবহন সংকটে দুর্ভোগ চরমে

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে গতকাল সোনারগাঁ যাওয়ার পথে সাইনবোর্ড এলাকায় রোগীসহ অ্যাম্বুল্যান্স আটকে দেওয়া হয়। পরিবহন শ্রমিকদের বাধার কারণে কোনো গাড়ি সড়ক পার হতে পারছিল না। ফলে নবজাতককে নিয়ে গোটা পরিবার পড়ে বিপাকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

একদিকে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে শ্রমিকদের পরিবহন ধর্মঘট, অন্যদিকে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র না থাকায় রাজধানী ঢাকার সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা একেবারেই কমে যায়। এর প্রভাবে রাজধানীর সর্বত্র গতকাল বুধবার দিনভর অমানুষিক দুর্ভোগের শিকার হয়েছে নারী, শিশুসহ সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে দূরদূরান্তের যাত্রীরা বাসাবাড়ি, অফিস ও হাসপাতাল থেকে বের হয়ে নানা ঝক্কিঝামেলা পাড়ি দিয়ে বাস টার্মিনালগুলোতে পৌঁছলেও সেখানে গিয়ে বসে থাকতে হয়। বিকেল পর্যন্ত দূরপাল্লার বাস না ছাড়ায় খাবার, বিশ্রাম ও টয়লেটের অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহায় তারা। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটায়।

গতকাল সরেজমিনে রাজধানীর মহাখালী, আজিমপুর, গুলিস্তান, মতিঝিল, সায়েদাবাদে গিয়ে এই চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিটি এলাকায়ই গণপরিবহন ছিল যাত্রীর তুলনায় খুবই কম। কোনো রুটে দীর্ঘ সময় কোনো গণপরিবহনই ছিল না। ফলে মোড়ে মোড়ে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

বাস প্রায় না থাকায় কিংবা কম থাকায় একটু দূরের গন্তব্যে যেতে অনেকের ভরসার উপায় ছিল লেগুনা ও সিএনজি। আজিমপুর-মিরপুর রোডে সেফটি, মিরপুর লিংক, গুলিস্তান-ধামরাই, শুভেচ্ছা, গ্রামীণ পরিবহন, বিকাশ, গাজীপুরগামী ভিআইপিসহ সব বাসের সংখ্যাই নেমে আসে অর্ধেকে। বেলা গড়াতে গড়াতে এর পরিমাণ আরো কমে যায়।

এই অবস্থায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। আর বাস এলেই হুমড়ি খেয়ে পড়তে হয়েছে নারী-পুরুষ সবাইকে। আবার কেউ বাস না পেয়ে ছুটেছে উবার বা পাঠাওয়ে। রিকশার চালকরা এই সুযোগে হাঁকিয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। এর পরও সময়মতো কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রিকশাও পাওয়া যায়নি। আবার কেউ কেউ জরুরি কাজে গিয়েও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে ডাকঘরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা তুলতে গিয়েও ফেরত আসতে হয়েছে অনেককে। পরে ডাকঘর থেকে জানানো হয়, শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে ব্যাংক থেকে টাকার গাড়ি আসেনি।

বঙ্গবাজারের আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘সরকার আইন করলে শ্রমিকরা মানবে না! শ্রমিকরা দাবি করলে সরকার শুনবে না। মাঝখানে দেবে গাড়ি বন্ধ করে। আর আমরা মরে যাই। এভাবে কি হয়? এতিমখানা থেকে বাসে বঙ্গবাজার ভাড়া পাঁচ টাকা, আর এখন ৭০ টাকা দিয়ে যাচ্ছি।’

জানা যায়, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সড়কে গাড়ি কম নামলেও এর পেছনে আছে অনেক গাড়ির কাগজপত্র ঠিক না থাকা, চালকদের হালকা যানের লাইসেন্স থাকাসহ কিছু কারণ। ভিআইপি পরিবহনের এক সুপারভাইজর বলেন, ‘ভাই, আমাদের ৭০টার মতো গাড়ি থাকলেও ৩০টার মতো নামানো হয়েছে। অন্যগুলো বিভিন্ন কারণে নামায়নি। তাই রাস্তায় গাড়ি একটু কম। ৭০ গাড়ির যাত্রী তো আর এত কম গাড়ি দিয়ে হয় না।’

বিকেল ৩টার দিকে মতিঝিল দৈনিক বাংলার মোড়ে গিয়েও দেখা যায় গাড়ির সংখ্যা কম। যাত্রীরা অপেক্ষায় আছে। দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, কাগজপত্র না থাকায় অনেক গাড়ি নামেনি। তাই গাড়ির কিছুটা সংকট। ধর্মঘটের কোনো প্রভাব এই এলাকায় পড়েনি।

জানা যায়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সব ধরনের দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ করে দেয় সায়েদাবাদ বাস মালিক সমিতি। পরে বিকেল ৩টা থেকে রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার বাস ছাড়া হয়। এর আগে সকাল থেকে এই রুটের গাড়ি আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে সায়েদাবাদ আন্ত জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা গাড়ি ঠিকমতো ছেড়েছি। তবে আন্দোলনকারীরা কাঁচপুর পর্যন্ত গেলে আটকে দেয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। বাসের তো ধর্মঘট ছিল না। তাই আমরা সকাল থেকেই গাড়ি ছাড়ি। বিকেল ৩টা থেকে বাস পুরোদমে ছাড়া হচ্ছে। তবে আমার মনে হয়, কোনো সমস্যা থাকলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা উচিত। রাস্তায় আটকে যাত্রী নামিয়ে দিতে হলে যাত্রীদের ভোগান্তি, আমাদেরও ক্ষতি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা