kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইঞ্জিন মেয়াদহীন রেলপথ গতিহীন

উত্তরে বাড়ছে ট্রেন দুর্ঘটনার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুর অঞ্চলে বেহাল রেলপথে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল লালমনিরহাট বিভাগীয় দপ্তরের ছয়টি সেকশনে আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ হয়েছে এমন ইঞ্জিন দিয়েই ৪২টি ট্রেন চালানো হচ্ছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। যাত্রীদের অভিযোগ, এ ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করলেও কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে অনিরাপদ হয়ে উঠছে রেলপথ।

গেটম্যান ছাড়াই ট্রেন চলাচল করে নীলফামারীর চিলাহাটি রেললাইনে। বিভিন্ন স্থানে নষ্ট হয়েছে রেললাইনের স্লিপার, খুলে গেছে স্ক্রু, নেই পর্যাপ্ত পাথর। কুড়িগ্রাম-তিস্তা রেলপথে বড়পুলের পাড় নামক স্থানে দেবে গেছে সেতুর পিলার। মাটি সরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার রেলপথ। একই অবস্থা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধাসহ রংপুর অঞ্চলের অধিকাংশ রেলপথের। রেলওয়ের তথ্যানুযায়ী রংপুর বিভাগের আট জেলায় রেলপথে মোট ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে ১৪৫টি। এ বছরই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ১০টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুরের কাউনিয়ায় ১২টি লেভেলক্রসিং যেন মরণ ফাঁদ। এই রেলওয়ে জংশনটির আওতায় ১২ লেভেলক্রসিংয়ে কোনো গেট নেই। সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দিয়ে দায় সারছে রেল কর্তৃপক্ষ। যদিও এই কাউনিয়া জংশন হয়েই রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ রেলপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। প্রতিদিন কাউনিয়া রেল জংশন স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করে দুটি আন্ত নগর ট্রেনসহ ২৮টি ট্রেন। ওই ১২টি লেভেলক্রসিং সড়ক দিয়ে দিন-রাত যানবাহন ও মানুষ চলাচল করলেও রেল কর্তৃপক্ষের কোনো গেট বা গেটম্যান না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ১৯ জুন কুর্শা ইউনিয়নের শিবু কুঠির পাড় লেভেলক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় একটি গরুবোঝাই নছিমন দুর্ঘটনার শিকার হলে চারজন লোক এবং সাতটি গরু প্রাণ হারায়। এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে বলভবিষু লেভেলক্রসিং পার হতে গিয়ে এক বৃদ্ধ প্রাণ হারান। একই মাসে বালাপাড়া গেটে ট্রেন ও জিপের সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হন।

=কাউনিয়া রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদ বলেন, রেলগেট এবং গেটম্যান দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে, কোনো কাজ হয়নি। এ ছাড়া স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট থাকলেও তা পূরণ হচ্ছে না। ফলে উন্মুক্ত লেভেলক্রসিংগুলোতে এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী গেট ও গেটম্যান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, সমস্যা সমাধানে খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল লালমনিরহাট বিভাগীয় দপ্তরের ছয়টি সেকশনে আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ ইঞ্জিন দিয়েই ৪২টি ট্রেন চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে ইঞ্জিন ও ট্রেনচালক সংকটের কারণে ২০টি ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে। রেলওয়ের এই ডিভিশনে ৩২টি ইঞ্জিনের মধ্যে একটি ছাড়া ৩১টিরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে ১৮টি দিয়ে জোড়াতালির মাধ্যমে ট্রেন চালানো হচ্ছে। ছয়টি ইঞ্জিন পরিত্যক্ত অবস্থায় কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় (কেলোকা) পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চালনায় অনুপযোগী বাকি আটটি দিয়ে শান্টিং কাজ করা হচ্ছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল হোসেইন বলেন, এখন লালমনিরহাট বিভাগীয় সেকশনে ইঞ্জিন সংযোজন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি সমাধানে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে, কিন্তু লাভ হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা