kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আজ বিশ্ব সিওপিডি দিবস

দেশের ৫% মানুষের পুরনো ফুসফুস রোগ

৪০ বছরের বেশি বয়সীদের ২১ শতাংশই আক্রান্ত
ধূমপান ও বায়ুদূষণই মূল কারণ
চুলার ধোঁয়ায় আক্রান্ত গ্রামের নারীরা

তৌফিক মারুফ   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের মোট জনসংখ্যার কমপক্ষে ৫ শতাংশ এবং  চল্লিশোর্ধ্ব বয়সীদের মধ্যে ২১ শতাংশ সিওপিডি বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে ভুগছেন। যার মূল কারণ বায়ুদূষণ ও ধূমপান। বায়ুদূষণের মধ্যে বাইরের পরিবেশগত দূষণের পাশাপাশি গ্রামে ঘরের রান্নার চুলার ধোঁয়াও মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনছে। তবু এ ব্যাপারে নেই পর্যাপ্ত সচেতনতা। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগেরও ঘাটতি রয়েছে।

সিওপিডি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আলী হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সিওপিডি রোগীর সংখ্যা বিশ্বব্যাপীই দিন দিন বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে প্রায় ২১ কোটি মানুষ সিওপিডিতে ভুগছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৩০ সালে সিওপিডি হবে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী রোগ। বাংলাদেশে ৪০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে সিওপিডিতে আক্রান্তের হার ২১ শতাংশ বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। এর মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই আছে। তবে নারী রোগীর হার আমাদের দেশে বেশি।

ডা. মো. আলী হোসেন বলেন, সিওপিডি হওয়ার মূল কারণ ধূমপান। এ ছাড়া রয়েছে বায়ুদূষণ। দূষণ বলতে আমরা ঘরে এবং ঘরের বাইরে এই দুই ধরনের দূষণকেই বুঝিয়ে থাকি। দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী ২৩ শতাংশ মানুষ ধূমপান করে। এটা একটা উদ্বেগের বিষয়। এদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ পুরুষ এবং ১.৫ শতাংশ নারী। গ্রামের মানুষের সিওপিডিতে ভোগার আরেক কারণ হলো তারা যে চুলা ব্যবহার করে সেগুলো থেকে ধোঁয়া বের হয়। একে বায়োমাস্কুয়াল বলা হয়। এসব ব্যাপারে জনসচেতনতা আরো জোরালো করা জরুরি। সেই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাও আরো বাড়ানো দরকার।

বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. রাশিদুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত এক জরিপ ফলাফলে দেখেছি, ৪০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ২১ শতাংশ সিওপিডিতে ভুগছে। এদের বেশির ভাগের কর্মদক্ষতা হ্রাস পাচ্ছে এ কারণে।’ এই বিশেষজ্ঞ জানান, দেশে সিওপিডি রোগীর ৬২ শতাংশ ধূমপায়ী। বাকিরা পরিবেশদূষণের কারণে আক্রান্ত হচ্ছে। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশি আশঙ্কা থাকে, যারা চুলায় রান্না করে। যাদের ৮৮ শতাংশ নারী। গ্রামে নারীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে সিওপিডিতে, শহরে বেশি পুরুষ।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর বলেন, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ব্যাধির মূল কারণই হলো ধূমপান। ধূমপান ও তামাক সেবনের ফলে আজ বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। তামাকে চার হাজারেরও বেশি ক্ষতিকর উপাদান থাকে। তামাক যেভাবেই ব্যবহার হোক, তার স্বাস্থ্যঝুঁকি আছেই। সব ধরনের ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য সমান ক্ষতিকর। এমনকি বর্তমানে যে ইলেকট্রনিক সিগারেট বাজারে পাওয়া যায় তাও ক্ষতিকর।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব সিওপিডি দিবস। দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতেই প্রতিবছর দিবসটি পালনে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কমর্সূচি পালন করা হয়। এবারও একইভাবে বিভিন্ন কমর্সূচির আয়োজন করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা