kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বসুন্ধরা আই হসপিটালের উদ্যোগ

ফিরবে চোখের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিরবে চোখের আলো

কুষ্টিয়া সদরের হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়াদি গ্রামে গতকাল বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে চক্ষু ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

হতদরিদ্র মনসুর আলী। বয়স ৮২ ছুঁই ছুঁই। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়াদি গ্রামের এই বৃদ্ধ গতকাল মঙ্গলবার এসেছিলেন বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত চক্ষু ক্যাম্পে। এই প্রতিনিধিকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘একসময় ডান চোখে কিছুই দেখতাম না। গতবার এই ক্যাম্পে এসে বসুন্ধরা আই হসপিটালে ফ্রি অপারেশনের সুযোগ পেয়ে যাই। এর পর থেকে ডান চোখে বেশ ভালো দেখি। কিন্তু এখন নতুন করে বাম চোখে একই সমস্যা হচ্ছে। তাই আবার ক্যাম্পে আসলাম।’ বিনা মূল্যে চিকিৎসা নেওয়া আরেকজন ফরজ আলী (৭৬)। এর আগে তিনিও ডান চোখ অপারেশন করিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘গতবার ডান চোখ ফ্রি অপারেশন করে চোখের আলো ফিরে পেয়েছিলাম। ডান চোখে আর সমস্যা হয় না। এখন বাম চোখে হালকা ঝাপসা দেখি। তাই এবারও এসেছি চোখ দেখাতে।’ 

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের গ্রামে দিনের পর দিন চোখের রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছিল। এ রকম প্রেক্ষাপটে বসুন্ধরা গ্রুপ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের বিনা খরচায় চিকিৎসা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। সে বছর প্রায় চার হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি এক হাজারের বেশি রোগীকে চশমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪০০ রোগীকে চোখের অপারেশনের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল স্থানীয় দোয়ারকা দাস আগারওয়ালা মহিলা কলেজ মিলনায়তনে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিনা খরচায় দিনব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করে। দোয়ারকা দাস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক হাজার ৩২৫ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে ২০০ জনের চশমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই শতাধিক রোগীকে অপারেশনের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বসুন্ধরা আই হসপিটালে এসব রোগীর অপারেশন করা হবে।

এই চক্ষু ক্যাম্পে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি অপারেশনের রোগী বাছাই করেন বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আই অ্যান্ড কন্টাক্ট লেন্স স্পেশালিস্ট অ্যান্ড সার্জন ডা. এম এ খালেক, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবুল আবুল কালাম আজাদসহ আট চিকিৎসক।

এদিকে এই ক্যাম্পে চিকিৎসা নিয়ে এলাকার অনেক মানুষ ভালো আছে—এমন খবর শুনে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে এই ক্যাম্পে এসেছে চোখ দেখাতে। রাজবাড়ীর পাংশা থেকে আসা রহিমা খাতুন বলেন, ‘আমি অনেক সময় চোখে অন্ধকার দেখি। তাই চোখ দেখাতে এসেছি। এখানে ডাক্তার দেখাতে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। আবার ওষুধও দেয় এরা।’ একই এলাকার মোমেনা খাতুন বলেন, ‘গরিব মানুষ। টাকা-পয়সা নাই। তাই এখানে চোখ দেখাতে এসেছি।’ বেড়বাড়াদি গ্রামের আবুল শেখের স্ত্রী কৈতরী খাতুন বলেন, ‘আমাদের এলাকার অনেক ছানি রোগী বিনা মূল্যে অপারেশন করে ভালো হয়ে গেছে। তাই আমিও এসেছি।’

দোয়ারকা দাস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পবন কুমার আগারওয়াল বলেন, ‘২০১৭ সালের মে ও নভেম্বরে দুইবার আমরা এখানে প্রায় চার হাজার রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসক, ওষুধ, চশমা ও চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করেছি। যাঁদের চোখে ছানি ছিল এমন প্রায় ৪০০ রোগীকে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে অপারেশন করিয়েছি। এখন তাঁরা প্রায় সবাই চোখে ভালো দেখছেন।’

বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আই অ্যান্ড কন্টাক্ট লেন্স স্পেশালিস্ট ডা. এম এ খালেক বলেন, ‘চক্ষু ক্যাম্পে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়েছি। একই সঙ্গে চোখের ছানি পড়া রোগীদের অপারেশনের জন্য বাছাই করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা