kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস

নতুন করে বেড়েছে আদা-রসুনের ঝাঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলছে। শুধু পেঁয়াজ নয়, গত এক সপ্তাহে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আদা, রসুনসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন অস্থির হয়ে উঠছে। তিন বেলা খাবার জোটাতে এসব মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা  গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও এখনো সহনীয় নয়। আবার খুচরা বাজারে এর প্রভাব নেই। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। রাজধানীর শ্যামবাজারে আড়তে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লার খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়েনি।

এ ছাড়া গত দু-তিন দিন ধরে বাড়ছে আদার দাম। বাজারে আদা বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। রসুনের কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। ১৭০ থেকে বেড়ে  ১৮০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে রসুন। সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি বেড়েছে চার থেকে পাঁচ টাকা।

রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজারের পাইকারি বিক্রেতা বাগেরহাট বাণিজ্যালয়ের মো. জসিম জানান, গত এক সপ্তাহে আদার দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের চন্দ্রিমা ট্রেডার্সের মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে চালের দাম বাড়ছে। কৃষকের ধানের দাম বাড়ানোর সরকারি ঘোষণা আর ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের অজুহাতে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে আড়তদাররা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মোটা চাল বিআর-২৮ এবং  মিনিকেটের দাম। মোটা চালের দাম বেড়েছে পাঁচ থেকে ছয় টাকা, মিনিকেটের দাম বেড়েছে কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় টাকা।

কারওয়ান বাজার সততা স্টোরের মিজানুর রহমান জানান, গত দু-তিন দিনে সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে পাঁচ-সাত টাকা। ৮৮ টাকা থেকে বেড়ে হয় ৯৫ টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। পাঁচ লিটার বোতল ৪৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৭০ টাকা।

মালিবাগ, ফকিরাপুল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজি বাজারেও সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। মিষ্টি কুমড়া কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহে আলুর কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা ছিল। গতকাল বাজারে বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা। বেগুন (গোল) ৬০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে। চিচিংঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, শিম ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকায়, পটোল ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ধনেপাতার দাম। প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা হয়েছে। শসা ৬০-৭০ টাকা থেকে একলাফে ১১০ টাকা হয়েছে।

গতকাল ফকিরাপুল বাজারের পান-সিগারেট বিক্রেতা খরিব মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, প্রতিদিন কোনো রকমে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে পাঁচজনের সংসার। ভীষণ হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। কোনো রকমে টেনেটুনে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ধারদেনা বাড়ছে তাঁর। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এভাবে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে কিভাবে সংসার চালাব!  আর কত ধারদেনা করব!

মন্তব্য