kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

দুই সংস্থার সমন্বয়ে চলছে তদন্ত

অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের রেহাই নেই

ওমর ফারুক   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের রেহাই নেই

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। দুই সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার কারণে তদন্ত জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, চার্জশিটের ক্ষেত্রেও থাকবে না কোনো ফাঁক। ফলে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ-সম্পদ অর্জনকারীদের রেহাই পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

এদিকে রাজধানীর একটি থানায় আজ মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ এক আসামির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সিআইডি কর্মকর্তারা সেই আসামির নাম বলতে চাননি। তবে সেই আসামি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া  গ্রেপ্তার ছয় আসামির বিরুদ্ধে আগামী ডিসেম্বর মাসে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় চার্জশিট দিতে যাচ্ছে সিআইডি। সিআইডির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মানি লন্ডারিং আইনে ছয়টি মামলা করা হয়। পরে থানা থেকে সিআইডিতে স্থানান্তর হয় মামলাগুলো। সেসব মামলায় জি কে শামীম, তাঁর সাত দেহরক্ষী,  খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, পাগলা মিজান, সেলিম প্রধান, এনামুল হক এনু, রুপন ভুইয়াসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য বিভিন্ন সংস্থার কাছে তাদের সম্পদের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সিআইডি। এখন পর্যন্ত ১২টি সংস্থা থেকে জি কে শামীমের সম্পদের তথ্য পেয়েছে সিআইডি। অন্য আসামিদের ক্ষেত্রে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে শিগগিরই সব সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পাবেন বলে আশা করছেন সিআইডির কর্মকর্তারা।

ক্যাসিনো কাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ নেতা পরিচয়দানকারী জিকে শামীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কৃত খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, অনলাইন ক্যাসিনো গডফাদার খ্যাত সেলিম প্রধান, কাউন্সিলর পাগলা মিজান, গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা এনামুল হক এনু ও তাঁর ভাই রুপন ভুইয়ার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দুদকও।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সেলিম প্রধানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক। তাঁকে গত রবিবার সাত দিনের রিমান্ডে পায় দুদক। এর আগে মানি লন্ডারিং আইনে সেলিম প্রধানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।

সিআইডি ও দুদক প্রায় একই ধরনের বিষয়ে তদন্ত করছে। এ ক্ষেত্রে কোনো সমন্বয়হীনতা দেখা দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ গতকাল সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, দুটি সংস্থাই সমন্বয়ের মাধ্যমে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। যে যে আসামির বিরুদ্ধে সিআইডি ও দুদক তদন্ত করছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য এক সংস্থা আরেক সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করছে। এই শেয়ারিংয়ের কারণে তদন্ত আরো জোরালো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তদন্ত সমন্বয়ের জন্য দুটি সংস্থায় ফোকাল পয়েন্ট রয়েছে।

অন্য এক কর্মকর্তা জানান, সিআইডি ও দুদক আসামিদের বিপুল সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছে। সেই সম্পদের মধ্যে অবৈধ সম্পদ কত তা খুঁজে বের করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা