kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইনের ভয়ে মানুষের ভিড়

সিলেট বিআরটিএ

সিলেট অফিস   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব দরজা-জানালার সামনে মানুষের ভিড়। দুই পাশের দুই বারান্দায়ও মানুষের গিজগিজ। কেউ বসে, কেউ দাঁড়িয়ে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কেউ কেউ দেয়ালে হেলান দিয়ে পায়ের ভর পরিবর্তন করছে ঘন ঘন। সবার চোখে-মুখে রাজ্যের বিরক্তি। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে যারা কাজ সারতে পারছে তাদের ক্লান্ত মুখে দেখা মিলছে ‘দুর্লভ’ হাসি।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সিলেট কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল এমন চিত্র। নতুন সড়ক পরিবহন আইন হওয়ার পর থেকেই এখানকার চেহারা এ রকম। শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, মেয়াদ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নবায়ন, পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নসহ নানা কাজে সেখানে এখন প্রতিদিন ভিড় করছে মানুষ। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সচেতনতা থেকে নয়, বরং আইনের ভয় থেকেই তারা লাইসেন্স করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছে তারা। হঠাৎ চাপ বেড়ে যাওয়ায় তা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিআরটিএসংশ্লিষ্টরা।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিআরটিএ কার্যালয়ে কথা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন আহমদের সঙ্গে। সিলেট শহরতলির বিমানবন্দর বাইশ টিলার বাসিন্দা সুমন তাঁর এক বন্ধুকে নিয়ে এখানে এসেছেন। দুজনই এসেছেন আঙুলের ছাপ দিতে। সুমন বললেন, ‘আমার কাজ শেষ। আমার বন্ধু মাত্র ঢুকেছে। তার জন্য দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করছি।’ তিনি বলেন, ‘সময় কাটতে চায় না। কিন্তু লম্বা লাইন, কিছু করার নাই।’ বিআরটিএর বারান্দার চেয়ারে বসে ছিলেন নগরের মীরাবাজার আগপাড়া এলাকার আরেক অটোরিকশাচালক আব্দুস সালাম। তিনি গত ২২ অক্টোবর ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়েছেন। তাঁকে বলা হয়েছে আগামী বছরের ১ এপ্রিল এসে লাইসেন্স নেওয়ার জন্য। গতকাল তাঁর ভাই আব্দুল আহাদকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে। তিনি বলেন, ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার পর লাইসেন্স দেওয়ার তারিখ দেওয়া হয় তিন-চার মাস পর। আরেকটু আগে দিলে ভালো হতো। তা ছাড়া একবার তারিখ দেওয়ার পর সময়মতো আসলে অনেক ক্ষেত্রে আবার তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়।’

বিআরটিএ কার্যালয়ে যারা ভিড় করছে তাদের বড় অংশই অটেরিকশা ও মোটরসাইকেলচালক। নগরের ঘাসিটুলা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল হাসিব এসেছেন শিক্ষানবিশ লাইসেন্স করার জন্য। কত দিন ধরে মোটরসাইকেল চালান—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চৌদ্দ থেকে পনের বছর তো হবেই।’ এত বছর হয়ে গেলেও লাইসেন্স করাননি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় একবার লার্নার লাইসেন্স করিয়েছিলাম। সে সময় ভেবেছিলাম লাইসেন্স করে ফেলব। কিন্তু পরে আর করা হয়নি। সেটা অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। এখন কড়াকড়ি করায় লাইসেন্স করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

শুধু আব্দুল হাসিবই নন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ভিড় করা চালকদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, বেশির ভাগই দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়েছেন লাইসেন্স ছাড়াই। এখন সচেতনতা থেকে নয়, আইন কঠিন করায় মামলা ও জরিমানার ভয় থেকেই তাঁরা বিআরটিএ অফিসের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

এ ব্যাপারে বিআরটিএ সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী মো. সানাউল হক বলেন, ‘নিজেই তো দেখলেন কী পরিমাণ মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে। হঠাৎ করে ভিড় বেড়ে যাওয়ায় আমাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা এখন কী পরিমাণ বেড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব হিসাব এই মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে শুধু লার্নার লাইসেন্সপ্রত্যাশীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। আগামী কয়েক দিনে এ সংখ্যা গড়ে আরো বাড়বে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা