kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

গ্রামীণফোন-বিটিআরসি বিরোধ

আপিল বিভাগে আদেশ পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রামীণফোনের কাছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দাবি করে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ বিষয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিটিআরসির করা আবেদনে গতকাল আদেশের জন্য দিন ধার্য থাকলেও আদালত আদেশ দেননি। আগামী রবিবার ২৪ নভেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। তবে আদালত এ সময়ের মধ্যে গ্রামীণফোনকে এ বিষয়ে কারো সঙ্গে (ফোরাম) কোনো মধ্যস্থতা না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী। বিটিআরসির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

হাইকোর্ট গত ১৭ অক্টোবর গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা দাবি করে বিটিআরসির দেওয়া চিঠির কার্যকারিতার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে বিটিআরসি আপিল বিভাগে আবেদন করে। এ আবেদনের ওপর শুনানিকালে গ্রামীণফোন আপাতত কত টাকা দিতে পারবে, তা প্রথমে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এবং পরে ১৪ নভেম্বরের মধ্যে আদালতকে জানানোর নির্দেশ ছিল। এ অবস্থায় গত ১৪ নভেম্বর গ্রামীণফোন আদালতকে জানায়, তারা শর্ত সাপেক্ষে ২০০ কোটি টাকা দিতে রাজি। গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থমন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে গ্রামীণফোনের সমঝোতা বৈঠকে পাঁচটি প্রস্তাব মেনে নেওয়া হলেই শুধু তারা টাকা দিতে রাজি। কিন্তু বিটিআরসি তাতে রাজি না হওয়ায় আদালত ১৮ নভেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। তবে গতকাল ছয় বিচারপতির বেঞ্চ না থাকায় আদালত আগামী ২৪ নভেম্বর আদেশের দিন ধার্য করেন। এ সময় কোনো মধ্যস্থতার উদ্যোগ না নিতে গ্রামীণফোনের প্রতি আদেশ দেন।

এর আগে প্রায় ২৭টি খাতে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা (নিরীক্ষা আপত্তি) দাবি করে গ্রামীণফোনকে গত ২ এপ্রিল চিঠি দেয় বিটিআরসি। ওই চিঠির বিরুদ্ধে ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করে গ্রামীণফোন। মামলায় অর্থ আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করে তারা। গত ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন। ওই আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে গ্রামীণফোনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ওপর দুই মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন। এ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত চেয়ে বিটিআরসি আপিল বিভাগে আবেদন করে। এ আবেদনের ওপর আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ।

গ্রামীণফোনের বক্তব্য : এদিকে গতকাল বিকেলে গ্রামীণফোন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মাননীয় আপিল বিভাগ আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন। এর ফলে বিটিআরসির উপর মাননীয় হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। আমরা আবারও অনুরোধ করছি যে আদালতের উপর আস্থা রেখে বিটিআরসি হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে।’ গ্রামীণফোন আরো বলেছে, ‘বিটিআরসির অডিট রিপোর্ট সঠিক নয়; আর তাই এই অডিটের ভিত্তিতে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা বন্ধ করা উচিত। আমরা আশা করছি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের সেবা প্রদানে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি আমদানিতে বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা