kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

বরিশালের আড়তে পেঁয়াজ আনা প্রায় বন্ধ

বরিশাল অফিস   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার কারণে বরিশালে বেশির ভাগ আড়তদার পেঁয়াজ বিক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে করে খুচরা বাজারে দেখা দিয়ে পেঁয়াজসংকট। আড়তদারদের দাবি, পাইকারি বাজারে অতিরিক্ত মূল্য, কম দামে বিক্রিতে প্রশাসনের চাপ এবং বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেঁয়াজ বিক্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন তাঁরা। তাই বেশির ভাগ আড়তদার মোকাম থেকে পেঁয়াজ আনছেন না।

আড়তদাররা জানিয়েছেন, গত রবিবার বিকেল পর্যন্ত পাইকারি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে প্রায় ৫০ টাকা। আর খুচরা বাজারে কমেছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে নগরীর হাটখোলা রোডের পেঁয়াজপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ পেঁয়াজের আড়ত ক্রেতাশূন্য। অন্যদিকে যেসব আড়তে বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ সাজানো থাকত, সেই আড়তগুলো প্রায় পেঁয়াজশূন্য অবস্থায় রয়েছে। অবশ্য কয়েকটি আড়তে পেঁয়াজ এখনো রয়েছে, তবে সেখানেও হাতে গোনা কয়েক বস্তার অস্তিত্ব পাওয়া গেল।

পাইকারি ব্যবসায়ী শহিদুল জানান, দাম বৃদ্ধির পর অল্পস্বল্প পেঁয়াজ দোকানে ওঠানো হয়েছে। কাস্টমার কমে যাওয়ায় পেঁয়াজ বেশি উঠিয়ে তা নষ্ট করতে চাচ্ছেন না। গতকাল আড়তগুলোতে দেশি পেঁয়াজ ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, মিয়ানমারের ১৯০ টাকা আর তুরস্কের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা কেজিতে। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হয়েছে দেশি ২৩০, মিয়ানমার ২২০ আর তুরস্ক ২১০ টাকা দরে।

কিন্তু পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও ক্রেতাশূন্য হয়ে আছে খুচরা দোকানগুলো। নগরীর বাজার রোডের খুচরা দোকানগুলোতে পেঁয়াজের তেমন একটা ক্রয়-বিক্রয় নেই বললেই চলে। নিতান্তই প্রয়োজন না হলে সাধারণ মানুষ পেঁয়াজ কিনছে না বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।

পেঁয়াজের আড়ত মেসার্স নিউ আদর্শ বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী হাফেজ ইব্রাহীম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একদিকে মোকামে পেঁয়াজের অতিরিক্ত দাম, অন্যদিকে খুচরা বাজারে কাস্টমার কমে গেছে; দুই মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজ আনা বন্ধ রেখেছি। মোকাম থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে পেঁয়াজ আনার পর তা বিক্রি করতে না পারলে পচে যাবে। দাম নিয়ন্ত্রণে না আসলে পেঁয়াজ আনা হবে না।’

সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক পলাশ সিকদার উল্লিখিত দুই কারণ ছাড়াও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রিতে প্রশাসনের চাপের কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘আড়তে পেঁয়াজ আনা বন্ধ রাখা হয়েছে। দাম কমলে আনা হবে। আশা রাখি আগামী এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

বড়বাজারের মুদি ব্যবসায়ী কাওসার হোসেন জানান, আগে সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন শ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো। বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পর প্রতিদিন তা নেমে আসে গড়ে ৫০ কেজিতে। যেসব ক্রেতা পাঁচ-দশ কেজি পেঁয়াজ নিত তারা এখন সর্বোচ্চ এক-দুই কেজি নিচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা