kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

মিঠাপুকুরে নদীর বালু দিয়ে নদী রক্ষা!

ভাঙন রোধের কাজে মিলেমিশে হরিলুট

মাঠে বালু ও পাথরের স্তূপে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা বন্ধ

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরের মিঠাপুকুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পাঁচ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীভাঙন রোধ ও বিদ্যালয় রক্ষার কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হরিলুটের মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে মিঠাপুকুরের ঘাঘট নদীর পারে সংগ্রামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায়। নদীতে তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে উল্টো প্রকট আকার ধারণ করেছে ভাঙন। এ ছাড়া মাঠে বালু ও পাথর স্তূপ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযোগ দিলেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিঠাপুকুরের বালারহাট ইউনিয়নের ওই বিদ্যালয় এবং সিংগের চর ও ফতেপুর এলাকাকে ঘাঘটের ভাঙন থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড পাঁচ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করে। রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উষা কনস্ট্রাকশন কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু কাজের জন্য প্রয়াজনীয় বালু ওই নদী থেকেই তুলে কাজ করছে তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সংগ্রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষ নদীতে ভেঙে পড়েছে। এর পাশে তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেই বালু দিয়েই চলছে বিদ্যালয় ও নদীপার রক্ষার কাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উষা কনস্ট্রাকশনের পক্ষে কাজগুলো দেখভাল করছেন তাহাজুল ইসলাম নামের একজন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালারহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম লুলু, সম্পাদক আব্দুস সালাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আলম বালু উত্তোলনের কাজটি করছেন।’ কাজটি রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী প্রকৌশলী চাঁন মিয়া নামের একজন কর্মকর্তা। কিন্তু তাঁকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাঁর পক্ষে অফিস সহায়ক একরামুল হক বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড ইচ্ছা করলে বালু তুলতে পারে।’ তবে মোবাইল ফোনে চাঁন মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার কাজটি বাস্তবায়ন করতে বালু কোথা থেকে আনবেন সেটা তাঁদের ব্যাপার। নদী হতে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

বালারহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম লুলু বলেন, ‘কাজটি করতে বালুর প্রয়োজন, ঠিকাদার সেটি নদী হতে উত্তোলন করছেন। আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দ হিসেবে কাজটি তদারকি করছি মাত্র।’ সংগ্রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা পারভীন বলেন, ‘বন্যায় ভাঙনের ফলে বিদ্যালয়টির অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সরকার বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার, স্থানীয় নেতা ও পাউবো কর্মকর্তারা মিলে নদী হতে বালু উত্তোলন করে কাজটি করছেন। এর ফলে ভাঙন আরো তীব্র হচ্ছে। এ ছাড়া বালু ও পাথরগুলো বিদ্যালয় মাঠে স্তূপ করে রাখার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছে না।’

উষা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী হাসানুর আলম হাসান নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নদীর যে জায়গা হতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেটি কদিন পরে ড্রেজিং করা হবে। মূলত বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নেতাকর্মীরা দেখছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা